দিল্লিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে কী হতে চলেছে ?
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তরুণ আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও সংগঠনটির আরও দুই শীর্ষ নেতাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় আটক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধ্রুব রাঠিও মুক্তি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দিপকে ও অন্য নেতাদের আটক করা হয়। ওই দিন মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। রোববার ভোরে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।
মুক্তির বিষয়টি জানিয়ে সংগঠনটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, মুক্তির শর্ত হিসেবে এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ধ্রুব রাঠিকে ভবিষ্যতে আর কোনো বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। তবে তাঁদের বেশির ভাগকে শনিবার গভীর রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রোববারও শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে মেট্রো স্টেশনগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্বাভাবিক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচকেরা। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সংস্থা। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার জাতিসংঘের এ অবস্থানকে ‘বেছে বেছে’ নেওয়া বলে সমালোচনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।
আন্দোলনকারীদের মূল আপত্তি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে। সমালোচকেরাও মনে করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বিরোধী দলগুলোর সমর্থক ও সংখ্যালঘু ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ তুলেছিলেন। এরপর থেকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছে কমিশন।
বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে বলেছে, যাচাই কার্যক্রমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর দাবি, নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একসময় অনলাইন ব্যঙ্গ-রসিকতার মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ পরে আন্দোলনভিত্তিক সংগঠনে পরিণত হয়। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে সংগঠনটির আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে চলমান আন্দোলনকে সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিজন ২’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ঘোষণা, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।