ইরানকে নিয়ে শত্রুতাপূর্ণ বক্তব্য ‘আগুন নিয়ে খেলা’
ইরানের ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে শত্রুতাপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল-রেজা।
তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা ‘আগুন নিয়ে খেলার’ শামিল।
সোমবার ইরানের ইতিহাস ও পারস্য সভ্যতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের’ প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, যারা ইরানকে নিয়ে বিদ্বেষ ও ক্ষোভপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন, তারা হয় ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না, নয়তো কৌশলগত বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের ধারণা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উপলব্ধি একটি বড় ভুল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক কৌশলগত হিসাবভ্রান্তি।’
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিপদ শুধু প্রতিপক্ষের দুঃসাহসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সভ্যতার সংঘাত নিয়ে খেলা মানে আগুন নিয়ে খেলা।’ যারা এ ধরনের সংঘাতের সূচনা করবে, তারা এর বিস্তার বা পরিণতির সীমা নির্ধারণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে এর প্রভাব অন্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাও সম্ভব হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি বক্তব্যের পর ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে মাজিদ ইবন আল-রেজার এ মন্তব্য আসে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে দেওয়া বক্তব্যে রুবিও প্রাচীন গ্রিস ও পারস্যের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮০ সালে পারস্যের রাজা প্রথম জার্কসিসের বাহিনীর এথেন্স অভিযানকে পশ্চিমা সভ্যতার বহিঃশত্রুকে পরাস্ত করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। একই বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্বের সমালোচনাও করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তেহরান।
এর জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাচীন ইতিহাসের আরেকটি ঘটনা সামনে আনেন। তারা ২৬০ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের রাজা প্রথম শাপুরের বাহিনীর হাতে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের বন্দি হওয়ার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন।
মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেন, যারা ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলবেন, তাদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সংস্কৃতিমন্ত্রী রেজা সালেহি-আমিরি পশ্চিমা রাজনীতিকদের দেশটির সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি ইরানকে হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা এবং বিশ্ব ইতিহাসের এক স্থায়ী বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেশটির ইতিহাস ও সভ্যতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বক্তব্যকে তেহরান কেবল কূটনৈতিক সমালোচনার বিষয় হিসেবে দেখছে না; বরং এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও যুক্ত করছে।