যুক্তরাষ্ট্রকে বেদনাদায়ক জবাবের হুঁশিয়ারি হুতিদের
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে দ্রুত ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলায় অংশ নিলে তাদের এবং অঞ্চলটিতে থাকা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখাইতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করব না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে তাদের সব স্বার্থকে লক্ষ্য করে দ্রুত ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।’
একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বুখাইতি বলেন, ‘এসব স্থাপনা এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।’
সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বুখাইতি বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বার্তা দেওয়া যে তিনি আর নিরাপদ অবস্থানে থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে পারবেন না।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কয়েক মাস পর গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার তীব্র হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হয়েছে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার পর হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, ট্যাংকার ও পরিবহনকেন্দ্রে হামলা শুরু করে। এর মধ্যে রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলাও রয়েছে, যা বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার রাতে আবারও সৌদি রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে হুতিরা দাবি করে, তারা আবারও বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পরে জোট জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শহরটিতে আগে সৌদি সামরিক ঘাঁটি হামলার শিকার হয়েছিল।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হন। সৌদি ভূখণ্ডে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে কয়েক শ মানুষ আহত হন।
হামলাটিকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।