ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংস টানা চারবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে, যা ২০০৭ সালের পর প্রথম। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
রবসন: শুরু থেকে ভালো খেলার চেষ্টা ছিল। প্রতিটি ম্যাচ দেখে-শুনে খেলেছি। এটা ফুটবল। প্রতিটি ম্যাচ সহজ হবে- এমন ভাবা ঠিক নয়। এখানে যেকোনো সময়, যেকোনো কিছু হতে পারে। এবারের মৌসুমে শুরু থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছি। লিগে দুটি ম্যাচে আমরা পয়েন্ট হারিয়েছি। হ্যাঁ... অবশ্যই আমরা এ আগেই তিনবার শিরোপা জিতেছি। সর্বশেষ তিনটা মৌসুম আমাদের দারুণ গেছে। চারবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। এখন আমরা চ্যাম্পিয়নন্স লিগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
.png)
ডেইলি বাংলাদেশ: বসুন্ধরা কিংস প্রথমবারের মতো এফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলবে। আপনিও বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের হয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে খেলবেন। সব মিলে কেমন লাগছে?
রবসন: এটা ক্লাবের জন্য দারুণ খবর। শুধু ক্লাবের জন্যই নয়, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, দেশের ফুটবলের জন্য বড় সুযোগ। পাশাপাশি এটি দেশের ফুটবলের জন্য আনন্দেরও সংবাদ বলা যায়। আমরা ভালো দল, সেজন্য এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা জানি, কীভাবে আমাদের সেরাটা দিতে হয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে গ্রুপ পর্যায়ে জয়ের জন্য চেষ্টা করব।

ডেইলি বাংলাদেশ: এবারের লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন দোরিয়েলতন গোমেজ (২০টি গোল)। যিনি আপনার ক্লাবের স্বদেশি খেলোয়াড়। আপনি এবারের লিগে গোল করেছেন ১০টি। শুরুর দিকে আপনাদের লড়াই ছিল সমানে সমান। আপনাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত লড়াই ছিল কি?
রবসন: জি... না। এমনটি ছিল না কখনই। শুরু থেকে যেমনটি বলেছিলাম, আমি লিগটা জিততে চাই, দলকে ট্রফি দিতে চাই। সে লক্ষ্যে খেলেছিলাম। কে সেরা গোলদাতা হলো? কে কি করল সেটা আমার কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না। দলকে শিরোপা জেতার জন্য আমার যা যা করার দরকার ছিল, আমি তাই করেছি। আমি মনে করি, দলের আনন্দ ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড়।
ডেইলি বাংলাদেশ: ক্রীড়া অঙ্গনে প্রথমবারের মতো আপনি বাংলাদেশি কোনো পুরস্কার পেয়েছেন। কেমন লাগছে?
রবসন: জি অবশ্যই। এটা ভালো সংবাদ ছিল আমার জন্য। এটি আমাকে অনুপ্রেরণা দেবে। আমার প্রতিদিনের কাজ, কঠোর পরিশ্রম কিংবা এটি আমার ভালো কাজের দিকে ধাবিত করবে। আমি খুশি। আমার পরিবারও খুশি। আত্মীয়-স্বজনও খুশি। আমি ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে এসেছি। আমার একটি লক্ষ্য রয়েছে। পরের মৌসুমেও আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ডেইলি বাংলাদেশ: এবার একটু দেশের ফুটবলে আসি। ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল এবং বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে কী কী পার্থক্য আপনার চোখে পড়ছে?
রবসন: ব্রাজিল ও বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের সবাই জানে, ফুটবলের দেশ ব্রাজিল। সেখানে অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছেন। যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগে খেলেন, কিংবা বর্তমানে খেলছেন। এছাড়াও ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রতি মৌসুমে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। এখানকার দেশি খেলোয়াড়রা নিজেদের ইম্প্রুভ করছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমি আশা করি, আগামী দুই-তিন বছরে এ দেশের ঘরোয়া ফুটবল আরো উন্নতি করবে। পাশাপাশি বড় বড় লিগকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।