ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

মানবপাচার মামলায় অমির ৮ সহযোগী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:০০, ২৬ জুন ২০২১
মানবপাচার মামলায় অমির ৮ সহযোগী কারাগারে
তুহিন সিদ্দিকী অমি ও নাসির উদ্দিন মাহমুদ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় মানবপাচারের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত তুহিন সিদ্দিকী অমির আট সহযোগীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

শুক্রবার  ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। শনিবার সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) স্বপন কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- জসিম উদ্দিন (৩৬), সালাউদ্দিন (৩৫), মুসা (২৬), রাকিবুল ইসলাম রানা (৩৩), গোলাপ হোসেন বুলবুল (৩৪), জাকির হোসেন (৩৪), নাজমুল (২৫) ও আলম (৩৫)। 

Advertisement

এদিন রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, গত ২২ জুন আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তার আগে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৯৫টি পাসপোর্ট, অমির ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি, ২২টি হার্ড ডিস্ক, সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত ষ্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ভিসা কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।

এদিকে, গত ২৩ জুন এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি অমির গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর আদালত এই রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৩০ জুন দিন ধার্য করেন।

গত ১৭ জুন রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় অমির বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করে এক ভুক্তভোগী। মামলায় অমি ছাড়া আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো পাঁচ-সাতজনকে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১৮ জুন এ  মামলার এজাহার আসলে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা যায়, অমি ও তার সহযোগীরা শত শত লোকজনকে অধিক বেতনে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। এ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল। এছাড়া আরো অনেক নিরীহ সরল লোকদের দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। চক্রটি ভিকটিমদের যথাযথ পদ্ধতিতে বিদেশ পাঠায়নি বলে তারা কাজ পাচ্ছে না। ফলে ভিকটিমরা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

অমি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পত্তির মালিক হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডের বাসা অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পর দিন ১৫ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিরসহ তাদের তিনজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৬৫) ও তুহিন সিদ্দিকী অমির (৩৩) সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এছাড়াও আদালত মামলার অন্য তিন আসামি লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধাকে (২৪) তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় চিত্রনায়িকা পরীমনি বাদী হয়ে উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ৮ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!