ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত শুকায়নি, বিচার শুরুর অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:০০, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত শুকায়নি, বিচার শুরুর অপেক্ষা
ফাইল ছবি

দীর্ঘ তিন বছর আগে আজকের দিনে রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহত হন। সেই ঘটনায় দায়ের করা হয় মামলা৷ এরপর তদন্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে কিছুটা স্বস্তি আসলেও অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত শুকায়নি। তবে এখন আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর অপেক্ষায় মামলাটি। এদিকে মামলার বাদী সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আসিফ বলেন, ৭১ জন মানুষ নির্মমভাবে পুড়ে মরার তিন বছর হয়ে গেল। এইদিন এলে পাবলিসিটি করার জন্য সবাই যোগাযোগ করে। অন্য সময় কেউ আর খোঁজ-খবর নেয় না। যাইহোক, শুনেছি মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু বিচার যেন হয়। আদালত যে বিচার করবে আমরা সেটা মেনে নেব।

এদিকে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনের মালিক সহোদর মোহাম্মদ হাসান সুলতান ও হোসেন সুলতানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ুম। আগামী ২৩ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয় শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। অভিযোগপত্রে  ১৬৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। 

Advertisement

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অপর আসামিরা হলেন- রাসায়নিকের গুদামের মালিক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক মোজাম্মেল ইকবাল, ম্যানেজার মোজাফফর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাওয়াদ আতিক, মো. নাবিল ওমোহাম্মদ কাশিফ।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৭১ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে। এ ঘটনায় আসিফ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা চকবাজার মডেল থানায় ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে সোহেল ওরফে শহীদ ও হাসানসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা তাদের চারতলা বাড়ির বিভিন্ন ফ্লোর দাহ্য পদার্থের গুদাম হিসেবে ভাড়া দেয়। দাহ্য পদার্থের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে সাজা হতে পারে: 
রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ভবনের মালিক সহোদর মোহাম্মদ হাসান সুলতান ও হোসেন সুলতানসহ আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০৪/৪৩৬/৪২৭/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

দণ্ডবিধি ৩০৪ ধারা:
কোন ব্যক্তি যদি খুন নয় এমন শাস্তি যোগ্যনরহত্যা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি যেকার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, অথবা এমন দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, যে দৈহিক জখমের দরুণ মৃত্যুঘটতে পারে; অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিতহয়, সে কার্যটি সম্পাদনের দরুণ মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা থাকে, অথচ কার্যটিমৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হয় নাই যে দৈহিক জখম করার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।

দণ্ডবিধি ৪৩৬ ধারা:
যদি কোন লোক সচরাচর উপাসনালয় হিসাবের্যবহৃত অথবা মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত অথবা সম্পত্তির হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহ ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে বা তদ্বারা সে উহা ধ্বংস করতে পারে জানা সত্ত্বেও অগ্নিবা অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবংতদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

আরো পড়ুন> ডেল্টা লাইফে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রশাসক থাকতে বাধা নেই

দণ্ডবিধি ৪২৭ ধারা:
কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব পরিমাণ অর্থের অনিষ্ট করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্তযে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী এস কে আবু সাঈদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অভিযুক্তরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। সেখানে তারা পারফিউমের বিজনেস করতো। আর আগুন লেগেছে কেমিকেলের গুদাম থেকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মালামাল রেখেছে কেন। এতে তাদের দোষ কোথায়? আগুন লেগে তাদেরও কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা অপরাধীর পর্যায়ে পড়ে না। বরং তারাও ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ভবনের মালিক সহোদর মোহাম্মদ হাসান সুলতান ও হোসেন সুলতানসহ আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০৪/৪৩৬/৪২৭/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে।আসামিদের বিরুদ্ধে যে ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় সেই দিকটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!