ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

কাদেরের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য: নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:২১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাদেরের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য: নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন দুই আইনজীবী। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ অবমাননাকর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হাজির হন আইনজীবী এম হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি হয়। শুনানি শেষে তাদের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলার রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসগুলো ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তার স্ট্যাটাসে ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে রায়কে ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন এবং রায় প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। ওই স্ট্যাটাসের মন্তব্যে অপর আইনজীবীও রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন।

এসব মন্তব্য আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে—এমন অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার আবেদন করে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাতজন নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান।

এছাড়াও এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এই মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!