ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষকসহ তিনজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:২১, ১১ আগস্ট ২০২১
জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষকসহ তিনজন রিমান্ডে
ফাইল ছবি

নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক ও বোমা প্রস্ততকারকসহ গ্রেফতার তিন জনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসির আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. জাহিদ হাসান ওরফে রাজু ওরফে ইসমাইল হাসান ওরফে ফোরকান, সাইফুল ইসলাম মারুফ ওরফে বাসিরা ও মো. রুম্মান হোসেন ফাহাদ ওরফে আব্দুল্লাহ। 

Advertisement

এদিন তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর কাফরুল থানার মামলায় তাদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম। এসময় তাদের কাছে থেকে বিস্ফোরক পদার্থ, ঢাকনাযুক্ত জিআই পাইপ, রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, লোহার বল, সাংগঠনিক কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি মো. জাহিদ হাসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়নে অনার্স সম্পন্ন করেছে। জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হওয়ায় এবং হিজরত করায় মাস্টার্স সম্পন্ন করতে পারেনি। ২০১৬ সালে অনলাইনে ‘হোয়াইট হাউজের মুফতি’ নামক আইডি’র মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে নব্য জেএমবি’র তৎকালীন আমির মুসার হাত ধরে সে এই সংগঠনে যোগদান করে। আমির মুসার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে সংগঠনের ঐ সময়ের শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিদের নজরে আসে এবং তাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করে। রসায়নে পারদর্শী হওয়ার কারণে তার মেধা এবং সাহসের জন্য তাকে এই সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। 

রসায়নের ছাত্র হওয়ার সুবাদে সে অল্পদিনে গ্রেনেড ও বোমা বানানোর অত্যন্ত দক্ষ হয়ে ওঠে এবং নিত্য নতুন কৌশলে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) প্রস্তুত করে। এই সংগঠনের যারা বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করতো তাদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিত সে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবি’র শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিরা গ্রেফতার/নিহত হলে এই সংগঠনটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময় গ্রেফতারকৃত জাহিদ গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে চলে যায়। পুনরায় সে নতুন আমিরের নেতৃত্বে সংগঠনকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। তারই অংশ হিসেবে অনলাইনে আইডি খোলার মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যারা অত্যন্ত সাহসী ও সামরিক বিভাগে কাজ করতে আগ্রহী তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের টাইম ও রিমোট কন্ট্রোল বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিত। সে সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিকবার মিটিং করে। 

শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আওতাধীন মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে কারাতে প্রশিক্ষণও গ্রহণ করে। সে বড় কোন কেমিক্যাল সাপ্লাই কোম্পানিতে চাকুরি করে সেখান থেকে এক্সপ্লোসিভ তৈরির উপাদান নিয়ে আইইডি বানানোর পরিকল্পনা ছিল তার। সর্বশেষ সে ড্রোন বানানোর পরিকল্পনা করেছিলো। ড্রোনের সঙ্গে এক্সপ্লোসিভ যুক্ত করে কোন জায়গায় আক্রমণের পরিকল্পনার পাশাপাশি সামরিক শাখার প্রধান নিযুক্ত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পুলিশ বক্সে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গেও সে জড়িত ছিল। সে আমিরের নির্দেশে যেসকল হামলার ঘটনা ঘটেছে সেসকল হামলায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।

মামলার সূত্রে আরো জানা যায়, অপর আসামি সাইফুল ইসলাম মারুফ একজন দক্ষ বোমা তৈরির কারিগর। সে অনলাইনে জাহিদের নিকট হতে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। বেশ কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়ে সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। সাইফুল ইসলাম মারুফ এবং আসামি মো. রুম্মান হোসেন ফাহাদসহ সংগঠনের সিদ্ধান্তে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার লক্ষ্যে বান্দরবান এলাকায় হিজরত করে। সংগঠনের ফান্ড তৈরির নিমিত্তে ইলেকট্রিক শক থেরাপির মাধ্যমে অজ্ঞান করে ছিনতাই ও ডাকাতি করার জন্য টঙ্গী থানাধীন রেলগেট এলাকায় রুম ভাড়া নেয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!