সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ উর রহমানের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস’র উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন আসামিদের পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
.png)
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা কিউকম ডটকম পরিচালনার অনলাইন শপিংয়ে ডিজিটাল জালিয়াতির উদ্দেশ্যে ধামাক্কা বিগ বিলিয়ন রিটার্ন অফারে পণ্যের ওপর ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট অফারসহ অসংখ্য অফার দিয়ে ডিজিটাল প্রতারণা করে অবৈধ ই-ট্রান্সজেকশনের মাধ্যমে হাজারো গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। গ্রাহকদের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে তাদের অর্ডারকৃত পণ্য সরবরাহ না করে আইনানুগ কর্তৃক বহির্ভূত ই-ট্রান্সজেকশনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে ডিজিটাল প্রতারণা করেছে।
আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
এর আগে ৬ অক্টোবর লালবাগ থানায় মামলাটি করেন চাকরিজীবী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। লোভনীয় অফার দিয়ে তিনিসহ তার আরো তিন বন্ধু কিউকম থেকে ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৩ টাকার পণ্য সরবরাহ করে। কিন্তু কিউকম তাদের পণ্যগুলো সরবরাহ করেনি।
এদিকে, প্রতারণার অভিযোগের মামলায় রাজধানী থেকে ৩ অক্টোবর রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন পল্টন থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এ আসামির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার প্রতারণার মামলায় তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলায় রিমান্ড শেষে ১৫ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তারও আগে ৮ অক্টোবর আরজে নিরবকে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঐদিনই তেজগাঁও থানার মামলায় নিরবের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১০ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, অন্যান্য ই-কমার্স সাইটের মতো কিউকমও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতো। প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ কয়েকটি ই-কমার্স সাইটের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের পর সম্প্রতি অফিস বন্ধ করে দেয় কিউকম। এই ই-কমার্স সাইটটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পণ্য সঠিক সময়ে ডেলিভারি না দেওয়াসহ টাকা আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।