ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার নোমান রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:২৫, ৪ নভেম্বর ২০২১
জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার নোমান রিমান্ডে
ছবি প্রতীকী

রাজধানীর দারুস সালাম মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার নব্য জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে আবু বাছিরের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন আসামি নোমানকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পল্টন থানার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে দশ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর দারুসসালাম থানার মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

মামলার সূত্রে জানা যায়, আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমান নব্য জেএমবির বর্তমান সামরিক শাখার একজন সক্রিয় দায়িত্বশীল সদস্য। সে মূলত নব্য জেএমবির আমীর মাহাদী হাসান ওরফে জনের নির্দেশে সামরিক শাখায় কাজ করতো। ২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে দাওয়াত পেয়ে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় এবং ফেসবুকে সদস্য সংগ্রহসহ উগ্রবাদী কার্যক্রম চালাত। সে টেলিগ্রাম চ্যানেল ও বটের মাধ্যমে নব্য জেএমবির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনের সামরিক শাখার কাজ পরিচালনা করতো। সংগঠনের অপর সদস্য আবু মোহাম্মদের নির্দেশে আব্দুল্লাহ আল নোমান ঢাকার মান্ডা এলাকায় এককভাবে রুম ভাড়া করে। আবু মোহাম্মদ তাকে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বানানোর ভিডিও টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠায়। আইইডি তৈরির ভিডিও দেখে সে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে এবং পরবর্তীতে আবু মোহাম্মদ, আব্দুল্লাহ্ আল নোমান ওরফে আবু বাছিরকে আইইডি বানানোর জন্য টাকা দিলে সে ভিডিও দেখে আইইডি তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে এবং আইইডি তৈরি করে।

মামলার সূত্রে আরো জানা যায়, জেএমবির পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে তার পছন্দমত এলাকায় ওই আইইডি দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর পল্টন এলাকাটি তার পূর্ব পরিচিত ও চাকরির স্থান হওয়ায় সে এই স্থানটি বেছে নেয়। পল্টন মোড়ের পুলিশ চেকপোস্টের আশেপাশে সিসি ক্যামেরা না থাকায় সে স্থানটি রেকি করে। এরপর গত ২৪ জুলাই তার তৈরিকৃত আইইডি পুরানা পল্টন মোড়ের পুলিশ চেকপোস্টের সামনে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সংক্রান্তে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছিলো। আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে আবু বাছির ২০১৮ সালে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো। সে একবছর তিন মাস পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় নব্য জেএমবির সঙ্গে সক্রিয় হয়।

নোমান গত ২৪ জুলাই পল্টনে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোর্ট থানার মেরকোট গ্রামে। তার বাবার নাম আবু তাহের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!