ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

কিশোরকে নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পায়নি পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১৭, ১৭ নভেম্বর ২০২১
কিশোরকে নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পায়নি পিবিআই
কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর- ফাইল ফটো

আটকের পর কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ছয় মাস তদন্ত শেষে গত ১৭ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

Advertisement

সূত্র জানায়, আগামী ২৪ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কিশোরের সাদা পোশাকে অজ্ঞাতনামা ১৬-১৭ জনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

এর আগে ২০ মার্চ ঢাকা মেডিকল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমী, অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন খান ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. হাফিজ সর্দারের মেডিকেল বোর্ড ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে কিশোরের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনেও  তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পায়নি এ ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ১০ মার্চ কিশোর আদালতে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলার আবেদন করেন। এরপর আদালত কিশোরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তারপর আদালত গত ১৪ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত মামলার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার আবেদনে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়।

মামলায় এজাহারে বলা হয়, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় কিশোরকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তার কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেননি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যান। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শুনেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, কিশোরকে একটি পুরোনো ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!