যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শারমিনকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
.png)
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন—দুলালের ভাই হারুন, ভাবি মোরশেনা, বোন সুমাইয়া ও বোনজামাই রাজু।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুলালকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তিনি আরও জানান, চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে দুলালের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অন্য আসামিদের কুপরামর্শ ও প্ররোচনায় দুলাল শারমিনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করতেন।
২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের জন্য শারমিনকে মারধর করা হয়। পরে শারমিন তার মাকে জানান, আসামিরা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে শারমিনের মা মোসা. মোমেলা হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, শারমিনের শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর শারমিনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শারমিনের মা মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুলালের মা জরিনা বেগমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই এ কে এম সাইদুজ্জামান।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে মামলার এক আসামি জরিনা বেগম মারা যান।
পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে রোববার দুলাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।