চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন বিচারকের আদালত বর্জনের পর এবার তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমিতির নেতারা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বিচারকদের প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
.png)
সভাপতির বক্তব্যে শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী সিভিল জজ শম্পা ইসলামের সঙ্গে আইনজীবীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ৪০০ আইনজীবীর উপস্থিতিতে বারের জরুরি সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের আদালত বর্জন করা হয়।
তিনি বলেন, এরপর বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে বিষয়গুলো সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
শামছুল ইসলাম মন্টু আরও বলেন, ওই তিন বিচারক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন এবং ভয় দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব হুমকিতে আইনজীবীরা ভয় পান না। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে আন্দোলন করে আইনজীবীরা বর্তমান পর্যায়ে এসেছেন। আইনজীবীরা বিচারপ্রার্থীদের পক্ষে বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেন; এতে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।
বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আইনজীবীরা এক ও অভিন্ন।’ কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পাল্টা কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম মেহেদীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সেলিম আকবর, সিনিয়র আইনজীবী মো. ইব্রাহীম, এটিএম মোস্তফা কামাল, হুমায়ুন কবির, এমরান হোসেন, জিপি এজেড এম রফিকুল হাসান রিপন ও হারুনুর রশিদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট নুরুল আলম খান আকাশ, কাদের খান, শামীম হোসেন, হেদায়েত উল্যাহ, নাজিম উল্লাহ বাপ্পি, আজহার ও আলম খান মঞ্জু।
সভায় বক্তারা বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবীরা ব্যানার নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।