ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

ভারতীয় নাগরিক রবিউলের ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতীয় নাগরিক রবিউলের ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
সংগৃহীত ছবি

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লাহ পিয়াসের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর আলম এ আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দফায় তাকে মোট ১৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলকে গত ১০ থেকে ১২ বছরে ১৫ বারের বেশি বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, আবার কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। তবে এসব সফরের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি পুলিশের।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এবং তার বক্তব্য ছিল ভাঙা ভাঙা। ফলে বাংলাদেশে তার নিয়মিত যাতায়াতের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের অভিযোগ, রবিউল ভারতীয় নাগরিক এবং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও পাচার নিষিদ্ধ সরকারি নথি ও তথ্য বিদেশে পাচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তার পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও সার্বিক সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রবিউল ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে এসে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ছিলেন এবং বিদেশি সংস্থার কাছে তথ্য পাচার করেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি এবং সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে রবিউলের সম্পৃক্ততা এবং গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’-এর আওতায় নিয়মিত মামলা করা হয়।

যেভাবে গ্রেপ্তার রবিউল

মামলার বিবরণ ও তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন।

পরে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার পাসপোর্ট দেখান। পরে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) থাকা জন্মতারিখে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে তার একাধিকবার আসা-যাওয়া ও অবস্থানের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ পুলিশের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!