ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হয় না, ভিতর থেকেও যত্নের প্রয়োজন। রোদ ও ধূলোবালি স্নিগ্ধ ও সতেজ ত্বকের বড় শত্রু। রোদের পোড়াভাব ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি বসে যায়। লোমকূপে ময়লা জমে মুখে ব্রণ হয় এবং রোদের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ঘাম থেকে ঘামাচিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই সময়ের ছোটখাটো ভুল অভ্যাস ভবিষ্যতে ত্বকের বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। গরমের সময় ঘাম বেশি হয়, সূর্যের তাপ বেশি থাকে আর বাতাসে ময়লা-ধুলাবালির পরিমাণও বেশি থাকে। গরমে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক ও ক্লান্ত দেখায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এই সময়ে খুব জরুরি।
.png)
গরমে ত্বকের যত্ন নিন
শুধু বাহ্যিক যত্ন করলেই হবে না, প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ যত্নেরও। গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল এবং কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। এ সময়ে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকে, এ জন্য গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। টক, ভাজাপোড়া এবং খুব বেশি গরম খাবার খাবেন না। পঁচাবাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। গরমে লেবুর শরবত হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য এক চমৎকার পানীয়। শরবতে একটু লবণ ও চিনি মিশিয়ে নিন। চিনি শক্তি জোগাবে, আর লবণ পূরণ করবে আপনার শরীর থেকে ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া লবণের অভাবটুকু। লেবুতে থাকে ভিটামিন সি। এই গরমে ভিটামিন সি ফিরিয়ে দেবে আপনার লাবণ্যতা।
গরমে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। সঙ্গে সানগ্লাস ও ছাতা নিতে ভুলবেন না। রোদে বের হবার আগে সানগ্লাস নিতে ভুলবেন না যেন। সানগ্লাস আপনার চোখকে রোদ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি আপনার মধ্যে একটা স্মার্ট লুক নিয়ে আসবে। বাইরে যেহেতু ঘন ঘন মুখ ধোয়া সম্ভব নয়, তাই সঙ্গে ফেসিয়াল টিস্যু রাখতে পারেন। কাজের ফাঁকে ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিলে নিজেকে অনেক ফ্রেশ ও সতেজ মনে হবে।
মনে রাখবেন, সূর্যের তীব্র রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখতে দরকার বাড়তি যত্ন। তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন ইউভি রশ্মির প্রভাবও বেড়ে যায়। ত্বকের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এ সময় ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ রাখতে হলে যা যা করবেন-
টি ট্রি অয়েল
নিয়মিত বাসায় ফিরে নারকেল তেলে সঙ্গে সামান্য টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। এবার একটি তুলার বল দিয়ে পুরো মুখ মুছে নিন। দেখবেন, সারা দিনের ময়লা পরিষ্কার হয়ে ত্বক নরম ও মসৃণ হবে।
অ্যালোভেরার রস
ত্বকের যেকোনো সংক্রমণজাতীয় সমস্যা সমাধান করে অ্যালোভেরা। তুলায় সামান্য অ্যালোভেরার রস নিয়ে পুরো মুখ মুছে নিন। এতে ত্বকে সংক্রমণের জীবাণু ধ্বংস হবে এবং ত্বক নরম হবে।
মধুর প্যাক
মধু প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া এটি ত্বকের শুষ্কতাও দূর করে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁরা ব্রাউন সুগার, মধু, অলিভ অয়েল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
ফলের ব্যবহার
পাকা আম ও ডালিম ত্বকের দাগ দূর করে এবং ত্বকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। তরমুজও এ সময় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া