বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ চাই’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বৈঠকে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় যেসব ভোগান্তির শিকার হয় দেশের সাধারণ নাগরিক, সে ভোগান্তির জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া জনগণের জন্য দয়া নয়, এটি জনগণের নাগরিক অধিকার।
.png)
ট্রেনের টিকিট নিয়ে তিনি বলেন, জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছে না, কাউন্টার থেকে বলা হয় টিকিট শেষ। কিন্তু টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখা যাচ্ছে ২৩ হাজার টিকিট এখনো অবিক্রীত। অন্যদিকে নতুন সংযোজন মোবাইলভিত্তিক অ্যাপসেও টিকিট কাটতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের। এই জবাবদিহিতা কার কাছে পাওয়া যাবে?
বিআরটিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, যদি পরিবারকে আগে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া যায়, তবে ঈদযাত্রায় অনেকটা স্বস্তি মিলবে। কারণ সবাই যখন একসঙ্গে বাড়ি যেতে চায় তখন আর স্বস্তির কোনো সুযোগ থাকে না, গাদাগাদি হয়ে যায়। তাই বাসগুলো বেপরোয়া হয় যাত্রী আনা নেয়ায়। লোকাল ট্রেনগুলোতে অন্তত ঈদের সময় পানি, বিদ্যুৎ এবং পাখার ব্যবস্থা করতে পারলে জনগণ অনেকটা স্বস্তি পেত।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, সরকারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আগামী পাঁচ বছরে কি পরিমাণ গাড়ি দেশে চলবে। সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। নতুন একটি ঢাকার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে। ঢাকায় যেন আর একটাও নতুন বিল্ডিং না উঠতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, নসিমন, করিমন প্রধান সড়কে শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব না। কারণ, ছোট ছোট যাতায়াত মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এজন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এক শহরের দেশ বাংলাদেশ। যার জন্য সবাইকে ঢাকায় আসতে হয়। তাই ঢাকার সুবিধাগুলো আশেপাশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যানজটের কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলো কাঙ্ক্ষিত টিপ দিতে না পেরে, তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা পড়ে। যার ফলে প্রতি বছর ঈদযাত্রা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা না গেলে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়িতে নিম্ন লোকজনের যাতায়াত কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। তাই, সারাদেশের সব বাস, রেল, লঞ্চ ও অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন কোম্পানিগুলোর ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের পরিচালনা অতীব জরুরি।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিআরটিএর রোড সেফটি পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানি এবং গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে