বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুব বলেন, বিমান উড্ডয়নের পর ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে গুলশান, বনানী, পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় বেশি লেজার অ্যাটাক হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় এই অ্যাটাক। এমনকি মধ্যরাতেও বিমান তাক করে লেজার লাইট নিক্ষেপ করা হয়। এক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়ার কথা বলেন তিনি।
পাইলটরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের রানওয়ের অ্যাপ্রোচ এলাকায় লেজার রশ্মির উৎপাতের শিকার হচ্ছেন তারা। আশপাশের এলাকা থেকে এই লেজার রশ্মি ফেলা হচ্ছে। বিমান নিয়ে ওঠা-নামার সময় পাইলটদের রানওয়েসহ অ্যাপ্রোচ এলাকায় নজর রাখতে হয়। লেজারের তীব্র রশ্মি ককপিটের কাচে প্রতিফলিত হওয়ায় দেখতে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই তীব্র রশ্মি পাইলটদের চোখে প্রদাহসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। তারা এ সমস্যার কথা প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করছেন।
.png)

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট আল মেহেদী ইসলাম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই রাতে বিমান নিয়ে ওঠা-নামার সময় ককপিটে লেজার রশ্মির উৎপাতের শিকার হচ্ছি। শুধু ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামেও একই ঘটনা ঘটছে। বিমান অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে অতি তীব্র রশ্মি চোখের সমস্যা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সরাসরি তীব্র আলোক রশ্মি চোখে লাগার পর হঠাৎ করে কিছুই দেখতে পাই না। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আল মেহেদী ইসলাম।

বিমানকে টার্গেট করে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ বন্ধে এবার ভিন্ন পথ অবলম্বনের কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেব মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান।
তিনি বলেন, বিমান টার্গেট করে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ বন্ধে এর আগেও আমরা গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছি। বিমানে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই নিরাপদে বিমান উড্ডয়ন অবতরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। বিভিন্ন থানায় চিঠি দিয়ে লেজার লাইট নিক্ষেপকারীদের আইনের আওতায় আনতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়ে আমরা আহ্বান জানাব এটা খুব বিপজ্জনক।