পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাকরাইন উৎসব ঘিরে বিক্রি হচ্ছে নানা রকমের ঘুড়ি। এদের মধ্যে চশমাদার, কাউটাদার, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি, চক্ষুদার, ঈগল, সাদা ঘুড়ি, চারবোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভ ঘুড়ি, ৩ টেক্কা, মালাদার, দাবা ঘুড়ি, বাদুর, চিল, অ্যাংরি বার্ডসহ নানা আকৃতির ঘুড়ি।

.png)
ঘুড়ি ও সুতার দাম সম্পর্কে দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ ঘুড়ির দাম ৮ থেকে ২৫ টাকা। বিদেশি ও নকশা ঘুড়ির দাম ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। নানা রকমের বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, লোহা নাটাই, কাঠের নাটাই, চাবাডী নাটাই বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ড্রাগন সুতা, ভুত সুতা, বিলাই সুতো, ঘুড়ি উড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের এই সুতা বিক্রি হয়ে থাকে ১৫০ থেক ৫০০ টাকায়।
ডেইলি বাংলাদেশকে শাঁখারী বাজারের রাধা মাধুরী প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী কমল ঘোষ বলেন, ভালোই বেচাকেনা চলছে। পাইকারি কাস্টমার বেশি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে ঘুড়ি নিয়ে যান। দোকানে ৮ থেকে ১০ রকমের ঘুড়ি রয়েছে। বিক্রি ভালোই হচ্ছে।

ঘুড়ি কিনতে আসা জামাল ও তার বন্ধু সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে এ উৎসব অনেক ভালো লাগে। প্রতি বছর সাকরাইনে বন্ধুরা মিলে ঘুড়ি উড়াই।
উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি সকাল থেকে শুরু হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়। এই দিনে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙ-বেরঙের ফানুশে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী শহরের আকাশ।
পুরান ঢাকা ছাড়াও ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এই উৎসব পালন করা হয়। আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সাকরাইন পালন করলেও এখন বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে সব ধর্মের মানুষ এটি পালন করে।