ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

‘এক হাতে ইফতার, অন্য হাতে দেন সংকেত’

আব্দুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশিত: ১৬:১৬, ৭ এপ্রিল ২০২৩
‘এক হাতে ইফতার, অন্য হাতে দেন সংকেত’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘরমুখো ও কর্মমুখী মানুষের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ করতে রোদ-বৃষ্টি, ঝড়, ধুলা-ধোঁয়া ও শব্দ মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত রাস্তায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

চলছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীবাসীর কর্মব্যস্ততার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাস্তার ট্রাফিক জ্যামও। সন্ধ্যা নামার আগেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের বাসায় ফেরার পালা। রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। ট্রাফিক জ্যাম সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। এরপরও ঘরমুখো মানুষ যেন ইফতারের আগেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য নীরবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

ঘরমুখো মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করতে পারলেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সে সুযোগ হয় না। ইফতারের সময়ও ডিউটি চালিয়ে যেতে হয় তাদের। দায়িত্বের ফাঁকে কোনোভাবে রাস্তায়ই ইফতার সেরে নিতে হয়।

Advertisement

সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সরেজমিন দেখা যায়, ইফতারের পূর্বে ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্য ইফতার তৈরির কাজ করছেন। পুলিশ বক্সের ভেতর থেকে ইফতার প্যাকেট বের করে বক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের একটি পানির বোতলসহ সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়।

দায়িত্বের ফাঁকে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ইফতার করছেন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসেখানে আরো দেখা যায়, বেশিরভাগ জায়গায়ই বড় আকারের প্লাস্টিকের বাটিতে (বল) ইফতারি মাখানো হয়। মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ছাড়া বাকি সবাই ইফতার করতে বসেছেন। আর যারা ঐ সময় ডিউটি করছিলেন তাদের হাতে ইফতার প্যাকেট দেওয়া হয়। একদিকে এক হাতে ইফতারের জন্য পানি মুখে দেন, অন্য হাতে দেন সিগন্যাল। 

রমজান মাসেও প্রতিটি রাস্তার মোড়ে এভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। রাস্তায় ডিউটি, রাস্তায় ইফতার, এমনটিই বললেন রাজধানী উত্তরার কদম চত্বর সিগন্যালে দায়িত্বরত সাইফুল ইসলাম নামে এক ট্রাফিক পুলিশ।

ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও ইনসেটে পুলিশ সদস্যের ইফতার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি বলেন, অনেক সময় জায়গা না থাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতারি করতে হয়। আবার কখনো কখনো বসার জায়গা থাকলেও সময় হয়ে ওঠে না। ইফতারের ফাঁকেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়ে।

উত্তরা ১২-নং সেক্টরের কদম চত্বর মোড়ে ডিউটিরত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মো. আতিকুজ্জামান আতিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা সেবামূলক কাজ করে থাকি। এই শহরের মানুষ নিরাপদে বাসায় ফিরবে, ইফতারি করবে- এটাই আমাদের কাম্য।

তিনি বলেন, আমার এখানে ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য যারা রয়েছেন, তারা সবাই রোজা রাখেন। আর আমাদের ডিউটিরত অবস্থায়ই ইফতার করতে হয়। কিছু সদস্য ইফতার তৈরি করেন। আজান দিলে আমরাও পুলিশ বক্সে যাই। ডিউটিতে কাউকে না কাউকে থাকতেই হয়। এজন্য অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের পুলিশ সদস্যরা এক হাতে ইফতার করেন, আরেক হাতে সংকেত দেন। ট্রাফিক পুলিশ এক সেকেন্ডের জন্য না থাকলে রাস্তা জ্যাম হয়ে যায়। আগে দায়িত্ব পালন, পরে অন্য সব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: ইফতার রমজান
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!