ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসতে পারেনি। ফলে চালানটির পরিবহনসূচি পিছিয়ে গেছে।

Advertisement

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি’।

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান কেন ওই অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। একটি নতুন তারিখ প্রস্তাব করেছে রাশিয়া। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’ 

অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘চালানটি গ্রহণের জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তারা আমাদের জানান যে আকাশপথ পরিষ্কার নেই। তাই তারা এটি পাঠাতে পারিনি। ফলে পুরো পরিবহনসূচি পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে’।

কোন দেশ বা ঠিক কী কারণে ফ্লাইটটির রুটে অনুমতি দেয়নি, তা তারা নিশ্চিত করেননি রোসাটম কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এছাড়া পাকিস্তান কেন রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি—এর কোনো ইসলামাবাদের পক্ষ থেকেও  এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের মতো নয়। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বিধি মেনে এ ধরনের জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে যে দেশগুলোর আকাশসীমা দিয়ে বিশেষ কার্গো বিমান চলাচল করবে, তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও রুটসংক্রান্ত ছাড়পত্র আগে নিশ্চিত করতে হয়। এবারের চালানে সেই অনুমতিপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি স্থগিত হয়েছে। সূত্র: এএনআই

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!