খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে এ পর্যন্ত যাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই অনলাইন বা অফলাইনে টিকিট বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এমনই একজন মিজান ঢালী। ২০০৩ সালে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের পিয়ন পদে যোগ দেন তিনি। তখন ট্রেনের টিকিট কাউন্টার থেকে হাতে হাতেই কিনতে হতো। ২০০৭ সালে ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরুর পর যখন সিএনএস বিডি এই দায়িত্বে এসেছিল, তখন সেখানে তার চাকরি হয়। ২০২০ সাল থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনায়, সেখানেও তার চাকরি বহাল থাকে।
এই মিজান ঢালীকে রোজার ঈদের আগে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে র্যাব। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন নিউটন বিশ্বাস নামে আরেকজন, তিনিও ২০১২ সাল থেকে রেলওয়ের কমলাপুর স্টেশন সাপোর্ট কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সিএনএস বিডি হয়ে সহজ ডটকমে কাজ করছিলেন সার্ভার অপারেটর হিসেবে।
.png)
স্টেশনের কাউন্টারে বসা প্রায় সবাই কালোবাজারিতে জড়িত। টিকিট কাটতে আসা বিভিন্নজনের জাতীয় পরিচয়পত্র রেখে দেয় কাউন্টারে বসা কর্মচারীরা। পরে সেই এনআইডি নম্বর দিয়ে টিকিট কাটা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ একজনের এনআইডি নম্বরে কাটা টিকিটে ভ্রমণ করে আরেকজন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকিট কালোবাজারি চক্রের নেতা উত্তম চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত। উত্তমের সঙ্গে তার সহযোগী আলী ও ফারুকও গ্রেফতার হন।
গ্রেফতার হওয়ার আগে উত্তম বলেছিলেন, স্যার আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। কয়েকটা টিকিট বিক্রি করে চলি। আমার পেটে লাথি দিবেন না। আরও বড় বড়রা জড়িত আছে, তাদের ধরেন স্যার।
এই উত্তমই জানিয়েছিলেন, স্টেশনের কাউন্টারে বসা প্রায় সবাই কালোবাজারিতে জড়িত। টিকিট কাটতে আসা বিভিন্নজনের জাতীয় পরিচয়পত্র রেখে দেয় কাউন্টারে বসা কর্মচারীরা। পরে সেই এনআইডি নম্বর দিয়ে টিকিট কাটা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ একজনের এনআইডি নম্বরে কাটা টিকিটে ভ্রমণ করে আরেকজন।
‘লাখপতি’ নামে পরিচিত এক রেলকর্মীর কথা জানিয়েছিলেন উত্তম চন্দ্র দাস। সেই ‘লাখপতি’ এখনও অধরা।
কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীকে দিয়ে বিভিন্ন যাত্রীর টিকিট কাটার সময় এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা হতো। পরে সেগুলো ব্যবহার করে প্রতিটি এনআইডির বিপরীতে চারটি করে টিকিট নিয়ে দিনে ৫ শতাধিক টিকিট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছিলো।
গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে উত্তমের পাশাপাশি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির হোতা হিসেবে পরিচিত মো. সেলিমকেও গ্রেফতার করে র্যাব।
তখন র্যাব জানিয়েছিল, কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীকে দিয়ে বিভিন্ন যাত্রীর টিকিট কাটার সময় এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা হতো। পরে সেগুলো ব্যবহার করে প্রতিটি এনআইডির বিপরীতে চারটি করে টিকিট নিয়ে দিনে ৫ শতাধিক টিকিট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছিলো।
এর প্রায় দুই মাস পর গত ২১ মার্চ সহজের কর্মী মিজান ঢালীসহ ৯ জনকে গ্রেফতারের কথা জানা যায়। র্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, সেলিম ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার একই কাজ করেন তিনি।
সেলিমের সঙ্গে আনোয়ার হোসেন কাশেম নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। তিনিও প্রায় ১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত। সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী কাশেমের দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা।
এই চক্র সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় সব ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্টেশনের অসাধু কর্মচারী ও টিকিট কাউন্টারম্যানদের মাধ্যমে আনুমানিক প্রায় ২-৩ হাজার রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রি করতো তারা।
সম্প্রতি ট্রেনের ৫০০ টিকিটসহ কালোবাজারি চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তাদের মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী আরিফুল ইসলাম একজন। র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির একটি চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন এই আরিফুল।

এ বিষয়ে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর বলেন, এই চক্র সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় সব ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্টেশনের অসাধু কর্মচারী ও টিকিট কাউন্টারম্যানদের মাধ্যমে আনুমানিক প্রায় ২-৩ হাজার রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রি করতো তারা।
তিনি আরো বলেন, এখানে দুই ধরনের চক্র কাজ করে। একটি চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করতো। সফট কপি পাঠিয়ে বিকাশ বা নগদে টাকা বুঝে নিতো।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রেনের বুকিং সহকারী আরিফুল এই কালোবাজারি চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন জানিয়ে র্যাব বলছে, তার কাছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রেনের টিকিটও পাওয়া গেছে। তিনি অনেকদিন ধরেই একাজ করে আসছিলেন।
অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করতো। সফট কপি পাঠিয়ে বিকাশ বা নগদে টাকা বুঝে নিতো।
আরিফুলের সঙ্গে আরো গ্রেফতার হয়েছেন- সোহেল রানা, মাহবুবুর রহমান, বকুল হোসেন, শিপন আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন রায়হান, মো. মনির, শিপন চন্দ্র দাস, মনির আহমেদ মানিক ও রাজা মোল্লা।
মানিক ও বকুলের কাছ থেকে সোহেল এবং ঠাকুরগাঁওয়ে থাকা রায়হান ও আনিনের নাম পাওয়া যায়। তাদের কাছে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া গিয়েছিল।
রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে বসে তিনি অন্যের মোবাইল নম্বর ও এনআইডি ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট একসঙ্গে কাটার কাজটি করতো। রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতো সোহেল ও মানিকের কাছে। আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফিরোজ কবীর বলেন, টিকিট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সিন্ডিকেটের মূল হোতাসহ বাকিদের মাঝে ভাগাভাগি হতো। সিন্ডিকেটের প্রত্যেক সদস্য অবৈধভাবে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে প্রতি মাসে ২০/২৫ হাজার টাকা উপার্জন করতো।
যেভাবে অনলাইন থেকে কালোবাজারে যায় টিকিট
গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে মো. আরিয়ান হোসাইন নামে এক টিকিট কালোবাজারিকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার কাছে পাওয়া টিকিটের সূত্র ধরে আসে আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তির নাম।
টিকিট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সিন্ডিকেটের মূল হোতাসহ বাকিদের মাঝে ভাগাভাগি হতো। সিন্ডিকেটের প্রত্যেক সদস্য অবৈধভাবে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে প্রতি মাসে ২০/২৫ হাজার টাকা উপার্জন করতো।
বেসরকারি চাকরিজীবী আজিজ জানিয়েছেন, ট্রেনে চড়ে কখনো শহরের বাইরেই যাননি তিনি। অথচ চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে, গত এক বছরে আজিজের মোবাইল নম্বরের বিপরীতে ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছে ১৮৪ বার। রেল টিকিট কাটার অ্যাপে তার নাম নিবন্ধন করা আছে ইসরাব উদ্দিন জোবাঈর নামে।
আজিজের ডাক পড়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায়। জেরা-জিজ্ঞাসাবাদের পর আজিজ পুলিশকে বোঝাতে সক্ষম হন, ইসবার উদ্দিন জোবাঈর নামে কাউকে চেনেন না তিনি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে আজিজের মতো প্রায় ৫০ জনের এনআইডি নম্বরের তথ্য মেলে, যারা জানেনই না তাদের নামে কাটা হচ্ছে টিকিট।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনে থামে উত্তরাঞ্চলের সব ট্রেন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর চলাচল এখানে। সান্তাহারে হোয়াটসস্যাপ-মেসেঞ্জারেও পাওয়া যায় আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। এজন্য ৩৬০ টাকা মূল্যের টিকিট পেতে গুনতে হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এসব টিকিট পাওয়া যায় সান্তাহার রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের আশপাশের কম্পিউটারের দোকান, ফটোকপির দোকান এমনকি পানের দোকানেও।
সান্তাহার জংশন স্টেশনে থাকা এক দিনমজুর জানান, কয়েকদিন আগে একজন তার কাছে এসে তার মোবাইল নম্বর ও এনআইডির ছবি মোবাইলে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ৫০ টাকা দিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায়, তার মোবাইল নম্বরটি আবার প্রয়োজন হবে। তখন আরো ৫০ টাকা দেওয়া হবে।
সেই দিনমজুরের মোবাইলের মেসেজ বক্সে দেখা যায়, ২৭ মার্চ রেলওয়ের টিকিট কাটার জন্য তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছে। মোবাইল দিয়ে কীভাবে টিকিট কাটতে হয়, তার কিছুই জানেন না ঐ দিনমজুর। অথচ তার নামে টিকিট কাটা হচ্ছে।
অনলাইন ও অফলাইনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে রেলওয়ে। পাশাপাশি মোবাইলে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) সিস্টেম চালু করা হয়। এ পদ্ধতিতেও থামানো যায়নি কালোবাজারিদের।
স্টেশনের পাশের একটি দোকানের কর্মচারী বলেন, তারা অনলাইন থেকে যেকোনো পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেন। পরে সেই টিকিট বিক্রি করেন।
নানা পদক্ষেপেও থামানো যাচ্ছে না টিকিট কালোবাজারি
ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে গত বছর ১ মার্চ থেকে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ স্লোগানে অনলাইন ও অফলাইনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে রেলওয়ে। পাশাপাশি রোজার ঈদের সময় মোবাইলে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) সিস্টেম চালু করা হয়। এ পদ্ধতি টিকিট নিয়ে কারসাজি রোধ করতে পারবে বলে আশা দেখিয়েছিলেন রেল কর্মকর্তারা। কিন্তু সেই তাতেও থামানো যায়নি কালোবাজারিদের।
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কিনতে হয়। আর সেই টিকিট যেন কাউকে হস্তান্তর করা না যায়, সেজন্য ট্রেনে তা পরীক্ষা করা হবে। ফলে কেউ কালোবাজারে টিকিট কিনলেও তা ভ্রমণের সময় পরীক্ষায় ধরা পড়ে যাবে। তখন জরিমানা দিতে হবে। এখানে কালোবাজারি ঠেকাতে মূল দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষেরই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এক ট্রেনযাত্রী বলেন, প্রথম দিকে এনআইডি দেখে টিকিট চেক করতো। এখন এনআইডি তো দূরের কথা, টিকিটই চেক করে না ঠিকমতো।
প্রথম দিকে এনআইডি দেখে টিকিট চেক করতো। এখন এনআইডি তো দূরের কথা, টিকিটই চেক করে না ঠিকমতো।
সিএনএস বিডি থেকে সহজ
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রিতে ২০০৭ সালে থেকে কাজ করছিল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস বিডি)। তবে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে দায়িত্ব পায় সহজ ডট কম। অনলাইনে বাস টিকিট বিক্রির সফল অভিজ্ঞতা নিয়ে সহজ আসে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে। তবে তাদের কর্মীও কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়।
কালোবাজারির বিষয়ে যা বলছে সহজ
রোজার ঈদের আগে টিকিট কালোবাজারিতে সহজের কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রেলওয়ের টিকিট বুকিং সহকারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া সহজের কোনো কর্মী কিংবা কারো পক্ষে জালিয়াতি করা সম্ভব নয়।
সহজ ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় রেলওয়েকে যাবতীয় কারিগরি (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) সহযোগিতা করছে। টিকিট কাউন্টারে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সহজ সরবরাহ করলেও এসব ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার ও টিকিট বুকিং সহকারীর হাতে থাকে। কাজেই সহজের কর্মীর পক্ষে সিস্টেমে ঢুকে টিকিট জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।
টিকিট কালোবাজারি দুইভাবে হয়ে থাকে। প্রথমত রেলওয়ের বুকিং এজেন্টদের মাধ্যমে, যারা যাত্রীদের এনআইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে সিস্টেম থেকে টিকিট কিনে থাকে। দ্বিতীয়টি হয় বাইরের কেউ টিকিট বৈধভাবে কিনে তা বিক্রি করার মাধ্যমে।
সহজের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, টিকিট কালোবাজারি দুইভাবে হয়ে থাকে। প্রথমত রেলওয়ের বুকিং এজেন্টদের মাধ্যমে, যারা যাত্রীদের এনআইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে সিস্টেম থেকে টিকিট কিনে থাকে। দ্বিতীয়টি হয় বাইরের কেউ টিকিট বৈধভাবে কিনে তা বিক্রি করার মাধ্যমে। এটা ভ্রমণকালীন টিকিট পরীক্ষা করলে সহজেই ধরে ফেলা যায়। আর এই কাজটিতে গাফিলতি হচ্ছে বলে কালোবাজারিরা সুযোগ পাচ্ছে।
যা বললেন রেলওয়ের মহাপরিচালক
অনলাইনে যাওয়ার পরও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, টিকিট কালোবাজারির বিষয়টি রেগুলার নজরদারিতে রাখছি। যারা অপরাধী তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে এরই মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। তাদের জন্য কোনো সুপারিশ করা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।