ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১৯ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ছবি: সংগৃহীত

ফসল উৎপাদন হ্রাস ও বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও হেলেনিক শিপিং নিউজের বরাতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

এফএওর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক জুনের তুলনায় ০.৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৩১.১ পয়েন্টে গিয়ে পৌঁছেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের (জুলাই) তুলনায় ১ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় খাদ্য মূল্যসূচক যে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল, বর্তমান সূচক তার চেয়ে ১৮.২ শতাংশ কম রয়েছে।

গত জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে প্রধানত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে, যেখানে সার্বিক দরপতন হয়েছে।

শস্য ও খাদ্যশস্য: এফএওর শস্য মূল্যসূচক ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩.৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি, কৃষ্ণাঞ্চলের বন্দর অবকাঠামোর ক্ষতি এবং প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে তীব্র দাবদাহের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিকূল আবহাওয়া ও জ্বালানি খাতের চাপের কারণে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ। তবে চালের বাজার সার্বিকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

ভোজ্যতেল: পাম ও সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যয়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বৃদ্ধি ও মার্কিন বাজারে সয়াবিনের চাহিদা এর মূল কারণ। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

চিনি: এল নিনোর প্রভাবে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাজিলে ইথানল তৈরিতে আখের ব্যবহার বাড়ায় বিশ্ববাজারে চিনির দাম ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।

মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য: খাদ্যপণ্যের দাম সার্বিকভাবে বাড়লেও মাংসের মূল্যসূচক ২.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২৬ সালে মাংসের ক্ষেত্রে প্রথম কোনো মাসিক দরপতন। এ ছাড়া দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দর কমেছে ০.৭ শতাংশ।

বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তায় নতুন আশঙ্কার সংকেত
জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নতুন করে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার ওপর।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!