ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]
এক ইউনিট বন্ধ

রামপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রামপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক
বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে কয়লা সংকটে এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনে থাকা ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে দেখা যায়, দুপুর ১টার পর আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৮৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এর আগে গত বুধবার থেকে কেন্দ্রটি গড়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।

এর আগে গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন আরও কমে যায় এবং দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। রোববার বন্ধ ইউনিটটি চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে শুরু করে কেন্দ্রটি।

Advertisement

তবে আদানি থেকে সরবরাহ বাড়ার আগেই রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। সম্প্রতি কয়লা সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রে কয়লার মজুত রয়েছে এবং দুটি ইউনিট মিলিয়ে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ বন্ধ করা হয়েছে।”

বন্ধ ইউনিটটি কবে নাগাদ চালু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিট বন্ধ করার পর সেটি ঠান্ডা হতে (কুল ডাউন) সময় লাগে। এরপর সম্ভবত ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসবেন। এখনই ইউনিটটি চালুর সময়সীমা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুদিন পর এ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। বর্তমানে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

রামপালের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!