ঢাকা,  শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি সংগৃহীত

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তিনি এ অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তার প্রথম ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তার সরকার।

Advertisement

তিনি বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অগ্রগতির মাধ্যমে নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।

দেশ পুনর্গঠনে ৩-আর কৌশল

বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের নেওয়া ৩-আর কৌশলের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এর আওতায় রয়েছে রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন বা পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্ব

দেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। তাই নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় নগদ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, অর্থনীতিরও গণতন্ত্রীকরণ করতে চায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল যেন প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথা জানান তিনি।

পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন খাতে চালু করা সহায়তা কার্ডগুলো একীভূত করে ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা ও ক্রীড়ায় নতুন পরিকল্পনা

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াকে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, নৈতিকতা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাভিত্তিক পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, পোশাক ও বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রথমবারের মতো শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে গত জুনে সারা দেশে মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈষম্য দূর করার আহ্বান

বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী ও বাড়তে থাকা ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানের ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়।

উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বের প্রতি বাংলাদেশের সম্মানের কথা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য জাতিসংঘকে কার্যকর নীতিকাঠামো গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সমাধান

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তার ভাষায়, এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়া। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। তাই সংকটের উৎস যেহেতু মিয়ানমার, সমাধানও সেখানেই হতে হবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: বাংলাদেশ ফর অল’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তরুণরা ভয় ও বাধাহীনভাবে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবেন এবং প্রতিটি শিশু নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে জনগণের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই সরকারের বার্তা, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: বাংলাদেশ ফর অল’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!