ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

দুর্নীতি ঠেকাতে প্রশাসনে ২৩ দফা নির্দেশনা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতি ঠেকাতে প্রশাসনে ২৩ দফা নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কাজে গতি বাড়াতে ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা চালু, পদোন্নতি ও বদলিতে তদবির করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন এবং অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তির উদ্যোগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত সোমবার এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসন পরিচালনায় এ ধরনের সমন্বিত নির্দেশনা এবারই প্রথম। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২৩ দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি, বদলি বা চাকরির কোনো সুবিধা পেতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার কিংবা তদবিরের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদবিরের চেষ্টার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিতেও সংযুক্ত করা হবে।

দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই কর্মকর্তা যাতে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার মাধ্যমে বারবার সরকারি সফরে বিদেশ যেতে না পারেন, সে বিষয়েও সচিবদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপস্থিতির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিটি বিভাগ একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নজরদারি করা যাবে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে কোনো প্রস্তাব পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫-এর তফসিল-৭ অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সরকারি দপ্তর বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে জমি কিংবা আইনি বিরোধ দেখা দিলে সরাসরি মামলা না করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় করে বিরোধ মেটাতে হবে।

প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর করতে অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্ত এবং বিদ্যমান শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাডার পদগুলোর সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করে সরকারি কর্মচারীদের পেশাগত পরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিটি দপ্তরের অর্গানোগ্রাম প্রতি তিন মাস অন্তর হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে কোন দপ্তরে কত পদ রয়েছে, কতটি শূন্য এবং কোথায় জনবলের ঘাটতি রয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগও ডিজিটাল বা বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!