ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে গতি চান ব্যবসায়ীরা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪১, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে গতি চান ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

প্রণোদনা তহবিলের ঋণ পেতে শর্ত শিথিল এবং খেলাপিমুক্ত হতে ২ শতাংশ নগদ টাকা জমা দেওয়ার বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে তারা এ দাবি জানান।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং ঋণের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে জানান তারা।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়ের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পর্ষদ সভা করে আবেদন নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন তারা।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এসব কর্মসূচির নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা তহবিলের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের তাগিদ দেওয়া হয়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাইছে না। আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

বন্ধ কলকারখানা চালু এবং অর্থনীতি চাঙ্গা করতে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের দেওয়ার কথা। এতে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে চার মাস পরও এর বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে। অন্যান্য খাতেও ঋণ বিতরণে তেমন গতি নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!