বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের শক্তি: নিতাই রায়
পাহাড় ও সমতলের সব জাতিসত্তার সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি, সাম্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান শক্তি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজার মাঠে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’ উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বান্দরবান পৌরসভার উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ধর্মীয় ও সামাজিক এই উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরা হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সব জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই জাতীয় পরিচয়ের মূল শক্তি।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি দিন আজ। এখানে এসে বাংলাদেশের প্রকৃত সত্তা, রূপ ও বহুমাত্রিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার মানুষের এই মিলনমেলাই বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য।’
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা বাসস্থানের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাহাড় ও সমতলকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ। সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, তরুণসমাজ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং প্রত্যেকেরই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সামগ্রিক উন্নয়ন ও সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মাতৃভাষা সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে গবেষণায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন। দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা, আধুনিক শিক্ষা ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক।
সাচিং প্রু জেরী আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রনির্বিশেষে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সৌহার্দ্য ও সাম্যের ‘রেইনবো নেশন’ গড়তে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি জানান, ‘রেইনবো নেশন’-এর ধারণা বাস্তবায়ন এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে একটি বড় কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর আয়োজন এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের শুভ সূচনা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।