আরো বাড়ছে রান্নার খরচ
বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়বে ১৩৯ টাকা। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে কমিশনের গণশুনানিতে এ সুপারিশ করা হয়। শুনানিতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আমদানি, পরিবহন, মজুত ও বোতলজাতকরণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও ব্যয়ের হিসাব বিবেচনার পর কমিশন নতুন মূল্য ঘোষণা করবে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি কেজি গ্যাসের আমদানি সমতা মূল্য ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ এসেছে। পরিবেশক চার্জ ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব চার্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের পরিবহন ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শুধু রান্নার গ্যাস নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের বর্তমান দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৩ টাকা ৮৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের।
এদিকে, গ্যাসের নির্ধারিত দাম বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সমিতি জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে অনেক গ্রাহককে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। সংগঠনটি দাম বাড়ানোর আগে সরবরাহ নিশ্চিত করা, মজুতদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয় এবং এর প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে বিপুলসংখ্যক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদিত হলে রান্নার খরচ আরও বাড়তে পারে।