ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

রূপপুরে বিদ্যুতের নতুন ধাপ, গ্রিডে যাচ্ছে ৩০০ মেগাওয়াট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুরে বিদ্যুতের নতুন ধাপ, গ্রিডে যাচ্ছে ৩০০ মেগাওয়াট
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইউনিটের ভৌত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে ‘পাওয়ার স্টার্ট’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এই ধাপে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চুল্লির ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বছরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরবর্তী ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু এবং ভৌত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাওয়ার স্টার্ট পর্যায়ে প্রথমে খুব কম মাত্রায় শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। এরপর চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে জেনারেটর যুক্ত করে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি পিছিয়ে যায়। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় সমস্যাটি সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা সফল হওয়ার পর গত ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এখানে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে। দুই ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। এ প্রক্রিয়া কয়েক মাস চলতে পারে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগোবে কেন্দ্রটি। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এটি হবে একটি বড় মাইলফলক। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!