ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ছবি ]

শক্ত অবস্থানে ইসলামি ধারার ব্যাংক সংকটে অন্যান্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
শক্ত অবস্থানে ইসলামি ধারার ব্যাংক সংকটে অন্যান্যরা
ইসলামি ব্যাংকিং। ছবি: প্রতিকী

দেশের প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর চেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে পুঁজি করে এ অবস্থান তৈরি করেছে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। শুধু ব্যবসা নয়, আমানত, ঋণ বিতরণ, মুনাফা প্রবৃদ্ধিসহ ব্যাংকিং খাতের প্রায় সবকটি সূচকে এসব ব্যাংকের অংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি বছরের জুন প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের ২২ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর। চলতি বছরের জুনে এ আমানতের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশে। এছাড়া শাখা বৃদ্ধি ও ঋণ বিতরণেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ বেড়েছে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ঋণের ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ বিতরণ করে ইসলামী ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের জুনে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর মোট শাখার ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এখন ইসলামি ব্যাংকিং করছে। গত বছর জুনে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ ও আমানতের মতো শাখার ক্ষেত্রেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর অংশীদারিত্বও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিজীবীদের আন্তরিকতার কারণে ব্যাংকিং খাতে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। গ্রাহককে সন্তুষ্ট করা ও যথাযথ সেবা দেওয়াকে দায়িত্ব মনে করে ব্যাংকের কর্মকর্তারা। একইভাবে জনগণের আস্থার কারণে এ ব্যাংকগুলো ভালো ব্যবসা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকরা প্রচলিত ব্যাংকের চেয়ে তুলনামূলতভাবে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে লেনদেন করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আবার ইসলামী ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেয়।’

এ প্রসঙ্গে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, ‘ইসলামি ব্যাংকের মূলনীতি হলো- সুদ হারাম, ব্যবসা হালাল। এছাড়া জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ ইসলামি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেনকে নিরাপদ মনে করেন। আবার ইসলামি ধারার ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের চাকরিকে ইবাদত মনে করে। ফলে ইসলামি ধারার ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আহরণে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশই ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর অবদান। এ ব্যাংকগুলোতে গত এক বছরে নতুন করে কর্মসংস্থান হয়েছে এক হাজার ৪৯২ জনের। বর্তমানে দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আটটি পূর্ণাঙ্গ ধারার ইসলামি ব্যাংক। এছাড়া দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রচলিত ধারার ৯টি ব্যাংক চালু করেছে ইসলামি ব্যাংকিং শাখা, আটটি ব্যাংক চালু করেছে ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো। দেশের ব্যাংকিং খাতের এক-পঞ্চমাংশই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামি ধারার এ ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ব্যাংকগুলোর কাছে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল আট লাখ ৭৭ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আমানত এক লাখ ৯৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় পর্যন্ত ইসলামি ব্যাংকগুলোতে আমানত ছিল এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সব ব্যাংক মিলে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অংশ ছিল ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী সব ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ৯ হাজার ৭২০টি। এর মধ্যে ইসলামি ধারার ব্যাংকের শাখা আছে এক হাজার ১১২টি। যা মোট শাখার ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এসব শাখার মধ্যে পুরোদমে ইসলামি ধারার ব্যাংকিং আছে এক হাজার ৬৮টি। এর বাইরে প্রচলিত ধারার বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ১৯টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। আর ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো খুলে কাজ করছে ২৫টি শাখা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তারল্য নিয়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলো বিপদে থাকলেও সংকটে নেই ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। ২০১৫ সাল শেষে এই ব্যাংকগুলোয় যেখানে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। এখন সেখানে অতিরিক্ত তারল্য আছে সাত হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার কার্যক্রম চালানো ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!