ফসলের জমিতে গাছের মরা ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করার নাম পার্চিং। পার্চিংয়ে পাখি বসার সুযোগ পেলে তার দৃষ্টিসীমায় কোনো ক্ষতিকর পোকা দেখা মাত্রই সেটা সে ধরে খাবে।
এভাবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধান ক্ষেতের পোকার আক্রমণ কমিয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে। বিষবিহীন নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে এটা একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। আর এ পদ্ধতি ধান চাষীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
.png)
কৃষি বিভাগের মতে জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধান উৎপাদন হচ্ছে। এসব জমিতে যাতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে ধান ক্ষেতের পোকার আক্রমণ কমিয়ে বেশি ফলন পাওয়া যায়-সেজন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে সম্প্রতি মহাজনপুরে ধানের মাঠে অনুষ্ঠিত পার্চিং উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আখতারুজ্জামান।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন- পার্চিং হলো ধান ক্ষেতে ডাল-কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা। যেহেতু ধানের জমিতে পাখি বসার মতো তেমন কোনো গাছ নেই। তাই যদি কৃত্রিমভাবে ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কমে যাবে এবং ধান ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে। এ সময় উপস্থিত কৃষকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য তিনি নিজেই ধানের জমিতে নেমে পার্চিং স্থাপনে অংশ নেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ স্বপন কুমার খাঁ, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহ. মোফাখ্খারুল ইসলাম ও বিভিন্ন ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার।
মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মুহ. মোফাখ্খারুল ইসলাম পার্চিংয়ের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে বলেন, পার্চিং একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে ধান ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের অযাচিত ব্যবহার কমবে; ফসল উৎপাদন বাড়বে। মাটি, পানি তথা পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে ও ইকোসিস্টেম অক্ষুন্ন থাকবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। সর্বোপরি নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান- মুজিবনগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষক ভাইদেরকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধম্যে শতভাগ জমিতে পার্চিং করার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৯০ ভাগ জমিতে পার্চিং স্থাপন করা হয়েছে।
মহাজনপুর গ্রামের কৃষক স্বপন মেম্বার, মোস্তফা, মিন্টু, ফয়জুল্লাহ, পিজিরসহ অনেকে জানিয়েছেন- বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষি অফিসের পরামর্শে তারা তাদের ধানের জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। এমনকি কোনো প্রকার বিষ ব্যবহার না করেও অধিক পরিমান ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সারাদেশে পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতি সম্প্রসারিত হলে কৃষিতে কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার কমবে বলে সংশ্লিষ্টমহল মতামত ব্যক্ত করেছেন।
ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে