ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ কৃষি ও প্রকৃতি ]
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস

নদীর সংখ্যা আছে, প্রাণোচ্ছলতা নাই

শফিকুল ইসলাম খোকন
প্রকাশিত: ১৮:২১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নদীর সংখ্যা আছে, প্রাণোচ্ছলতা নাই
দেশে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে নদীগুলো সংরক্ষণ করার বিকল্প নেই। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশ রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে মুক্তির জন্য নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি।

নদী...। নদীর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। নদী প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি। নদী পাহাড়, ঝরনা বা হ্রদ থেকে জন্ম নিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সমুদ্র বা বড় কোনো নদীতে গিয়ে মিশে। নদীর প্রবাহমান পানি প্রকৃতিকে করে তোলে সজীব ও সুন্দর। বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়, কারণ এ দেশে অসংখ্য নদী রয়েছে। যেমন পদ্মা নদী, যমুনা নদী, মেঘনা, বিষখালী, বলেশ্বর, আন্দারমানিক নদী ইত্যাদি। এসব নদী দেশের কৃষি, মৎস্য এবং নৌ-পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

নদীর পানি দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হয় এবং নদী থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের মাছ পাই।  নদী শব্দটি শুনলেই প্রাচীন সময়ের কথা মনে পড়ে। নদীর কথা শুনলেই শৈশব ও কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নদীর কথা উঠলেই মনে পড়ে আমাদের প্রিয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের কথা। নদী প্রসঙ্গে বারবার ‘মনে পড়ে’ কথাটি বলছি কেন এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। কারণ আমরা সাধারণত অতীতের ঘটনা, কর্মকাণ্ড ও অভিজ্ঞতার কথাই স্মরণ করি; অর্থাৎ যা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। 

এক কথায় যদি বলি নদী শুধু জীবিকাই নয় প্রকৃতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমাদের অনেক নদীও যেন ধীরে ধীরে ইতিহাসের অংশে পরিণত হচ্ছে। একসময় যে নদীগুলো মানুষের জীবন, জীবিকা, যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, তার অনেকগুলোই আজ হারিয়ে গেছে অথবা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দখল, দূষণ, ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণশক্তি ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। তাই নদীর কথা উঠলেই বারবার স্মৃতির পাতায় ফিরে যেতে হয়। আর সে কারণেই নদীকে মনে পড়ার কথা বলছি।

Advertisement

নদী মানুষের জীবনে অনেক উপকার করে। নদীর তীরে গড়ে ওঠে জনপদ, বাজার এবং শহর। নদীর সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে এবং প্রকৃতিকে করে তোলে প্রাণবন্ত। তবে কখনো কখনো নদীর বন্যা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণও হয়। নদী আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নদীকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কিন্তু আমরা এই নদী মাতৃক দেশে নদীকে কি করছি। 

অবৈধ দখল আর দুষণের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের নদীগুলো। এর মধ্যে নতুন করে আতংক হলো নদীগুলো এখন হয়ে গেছে লাশের ডাম্পিং। কথা ছিল নদীতে পাওয়া যাবে মাছ কিন্তু আমরা পাচ্ছি মানুষের লাশ। এখন প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো নদীতে মানুষের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। মাছের বদলে লাশের আধিক্য বেড়েছে। দখলে-দুষণে বিপর্যস্ত নদীগুলো এখন লাশের ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে।

দেশের নদ-নদী রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ

বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। এই পরিচয় আমাদের ভূগোলের একটি বৈশিষ্ট্যই নয়, আমাদের ইতিহাস, অর্থনীতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু আজ একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে দাঁড়িয়েছে আমাদের নদীর সংখ্যা কি আছে, অথচ নদীর প্রাণ কতটা আছে? একটি নদী শুধু তার মানচিত্রে আঁকা রেখার নাম নয়। নদীর প্রাণ তার প্রবাহে, জোয়ার-ভাটায়, পানির স্বাভাবিক ওঠানামায়, পাড়ের সবুজে, মাছের বিচরণে, নৌকার চলাচলে এবং নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা মানুষের জীবনে। নদীর খাত টিকে থাকলেই নদী বেঁচে থাকে না; তার স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রতিবেশব্যবস্থা টিকে থাকাটাই আসল।

বাংলাদেশে নদী রক্ষার আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে মূলত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কিংবা খননের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। এগুলো প্রয়োজনীয়। কিন্তু নদীর অসুখ তার চেয়েও গভীর। কোথাও নদী ভরাট হয়ে সরু হচ্ছে, কোথাও শিল্প ও নগরবর্জ্যে পানি দূষিত হচ্ছে, কোথাও উজানের প্রবাহ কমে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও পলি সামলানোর স্বাভাবিক সক্ষমতা হারিয়ে কোনো কোনো নদী ভয়াবহ ভাঙনের কারণ হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে বড় সংকট হলো নদীকে আমরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে একটি জলপথ বা জমির সীমানা হিসেবে দেখি; নদীগুলো আমাদের ভোগের জন্য দেখি বা মুল্যায়ন করি। একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা বা প্রকৃতির ভারসাম্য হিসেবে দেখি না। নদী  যে আমাদের জন্য সম্পদ বা আর্শ্বিবাদ তা না ভেবে আমরা শুধু ভোগের চিন্তা করি।

দেশে নদ-নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৮টি

  • আমি যদি গ্রাম্য ভাষায় একটি কথা বলি তা হলো গ্রামে যারা জমি ক্রয় করেন অথবা পুর্ব পুরুষ জমিজমা বাড়ি ঘর করেন সবার চিন্তা থাকে বাড়ির পাশে খাল, নদী রয়েছে কিনা এবং ওই খাল বা নদী ভরাট হয়েছে কিনা। ভরাট হলে সেই জমি তাদের বাড়ির সাথে মিলিয়ে ভোগ দখল করতে পারবে। এমন স¦ভাব বা অভ্যাস আমাদের বহু বছর ধরে সমাজের মানুষের মনে লালিত হয়ে আসছে। 

এই লোভের কারণেই দিন দিন নদী খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। একটি নদীর স্বাস্থ্য বোঝার জন্য শুধু তার পানির পরিমাণ মাপলে হবে না। পানির গুণমান কেমন, সারা বছর প্রবাহ আছে কি না, মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাস টিকে আছে কি না, নদীর সঙ্গে খাল-বিল-জলাভূমির সংযোগ আছে কি না এসবও দেখতে হবে। নদীর সঙ্গে তার প্লাবনভূমির সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলে নদীর স্বাভাবিক চরিত্র বদলে যায়। এর প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনেও।

নদী শুকিয়ে গেলে কৃষক সেচের সংকটে পড়েন। দূষিত হলে মৎস্যজীবীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নাব্যতা কমলে নৌপথের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। আর নদী দখল ও সংকোচনের ফলে একদিকে যেমন জলপ্রবাহের জায়গা কমে, অন্যদিকে বাড়ে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি। তবু আশার জায়গা আছে। নদীকে বাঁচানোর জন্য নতুন করে কোনো অলৌকিক আবিষ্কারের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন নদীকে নদী হিসেবে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা করা।

প্রথমত, প্রতিটি নদীর জন্য শুধু দখলমুক্তির তালিকা নয়, একটি সমন্বিত নদী-স্বাস্থ্য মূল্যায়ন দরকার। 

দ্বিতীয়ত, নদীর প্রবাহ, পানির গুণমান, জীববৈচিত্র্য ও দখলের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। 

তৃতীয়ত, নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল, বিল ও জলাভূমিকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু মূল নদী রক্ষার চেষ্টা করলে চলবে না। 

চতুর্থত, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর একটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি নদী রক্ষা যেন শুধু সরকারি প্রকল্পের বিষয় না হয়। 

নদীর সঙ্গে বসবাসকারী মানুষকে নদী ব্যবস্থাপনার অংশ করতে হবে। জেলে, কৃষক, নৌকার মাঝি, নদীতীরের বাসিন্দা, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে বিবেচনায় না নিলে নদীর প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন।

আমরা প্রায়ই গর্ব করে বলি, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু শুধু অতীতের পরিচয় ধরে রাখলে হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই পরিচয়ের বাস্তব অর্থও রেখে যেতে হবে। মানচিত্রে নদীর সংখ্যা থাকবে—এটি যথেষ্ট নয়। নদীর বুকে পানি থাকতে হবে, পানিতে প্রাণ থাকতে হবে, পাড়ে মানুষের জীবন থাকতে হবে। কারণ নদী মরে গেলে শুধু একটি জলধারা হারায় না; একটি ভূখণ্ডের স্মৃতি, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার একটি অংশও ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়। 

তাই এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত বাংলাদেশে কতটি নদী আছে, শুধু তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত: কতটি নদী সত্যিকার অর্থে বেঁচে আছে? বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট নদ-নদীর সংখ্যা ১,৪১৫টি। নদী মাতৃক দেশে অনেক বছর পর হলেও নদীর সংখ্যা নিরুপণ হয়েছে করা হয়েছে কিন্তু কত সংক্ষক নদী দখল‐দুষণ,ভরাট হয়ে গেছে তার কোন পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। 

এখন এমন প্রশ্ন যদি সরকারের কাছে করা হয় তাহলে প্রশ্নকারীর প্রতি সরকার বেজার হবে, আবার দখলকারীদের কাছে তো প্রশ্ন করার স্পর্দা নেই, কারণ সরকারের চেয়েও এই সকল দখলকারী প্রভাবশালী অথবা ক্ষমতাবান। যারাই দখলকারী তারাই প্রভাবশালী। আর তারাই রাজনৈতিক দলের নেতা।  

দখল-দূষণে মরছে নদী | The Daily Star

দেশে নদী রক্ষার জন্য আইন রয়েছে, প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। এতো কিছুর পরেও কেন নদী সুরক্ষা হচ্ছে না? কিন্তু বাস্তবতা হলো, নদী দখল ও দূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আবার ফিরে আসে। নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা, শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ নদীর অস্তিত্বকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

গত এক  বা দুই দশকে নদী রক্ষার প্রশ্নে সচেতনতা বেড়েছে। নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত, অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযান জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়। উচ্ছেদের পর অনেক স্থানে পুনরায় দখল হয়েছে, শিল্পবর্জ্য ও পলিথিন দূষণ অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দুর্বলতা প্রায়ই দৃশ্যমান হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতো কিছুর পরও কেন নদী সুরক্ষা পায়না? আন্তরিকতা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত,আইনের প্রতি শ্রদ্ধা সর্বপরি নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী প্রয়োজন অনুভুব করতে হবে। 

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। কমিশন বিভিন্ন সময়ে সুপারিশ ও প্রতিবেদন দিলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন সবসময় নিশ্চিত হয় না। কারণ কমিশনের তদারকি ও পরামর্শমূলক ক্ষমতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতার অভাব রয়েছে। 

ফলে নদী রক্ষার উদ্যোগগুলো কাগজে-কলমে শক্তিশালী হলেও মাঠপর্যায়ে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর বিচার অত্যন্ত জরুরি। আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হলে অপরাধীরা শাস্তির বাইরে থেকে যায়। অনেক সময় মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা নদী রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়। তাই নদী-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো আমরা কি নদীকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখব, নাকি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করব? নদী ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ কিংবা বর্জ্য ফেলে জলপ্রবাহ নষ্ট করা স্বল্পমেয়াদে লাভজনক মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য দিতে হয় বন্যা, জলাবদ্ধতা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে। 

খুলনার ৩৭ নদী অস্তিত্ব সংকটে

২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস। এ উপলক্ষে হয়তো বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি হবে। সংবাদমাধ্যমে নদী নিয়ে আলোচনা হবে। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও পরিবেশবাদী সংগঠনও কর্মসূচি পালন করবে। কিন্তু দিবসটি শেষ হওয়ার পর নদীর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও যেন শেষ হয়ে না যায়।

কথায় বলে, পরিবেশ বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচব। আমাদের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জীবনধারণের স্থান ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজ উদ্যোগে, নিজের স্বার্থে নদীকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগে খুব বেশি সফলতা আসবে না। পরিবেশকে বিবেচনায় না রেখে একটি সুন্দর পৃথিবীর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। পরিবেশ আর উন্নয়নের মধ্যকার সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী নয়। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। পরিবেশকে রক্ষা করে দেশের উন্নয়ন না করলে তা টেকসই হবে না। এজন্য শুধু সরকার বা বিভিন্ন সংস্থাকে কাজ করলে চলবে না, সমাজের প্রত্যেক মানুষকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করত হবে। পরিবেশ বাঁচিয়েই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সম্ভব করতে হবে।

হৃৎপিণ্ড না থাকলে মানুষ যেমন বাঁচবে না, তেমনি নদী না থাকলে দেশও বাঁচানো সম্ভব নয়; যেভাবে নদী মরছে, আর যেভাবে নদীগুলো কাঁদছে, তাতে এক দিন আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।  মনে রাখতে হবে, দেশে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে নদীগুলো সংরক্ষণ করার বিকল্প নেই। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশ রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে মুক্তির জন্য নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি।

লেখক: শফিকুল ইসলাম খোকন, সাংবাদিক, কলামলেখক ও গবেষক

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!