ধানগাছে থোড় আসার পর পরই চাষিরা মনে করেছিলেন তা পেকে গেছে। পরে তারা বুঝতে পারেন অধিকাংশ ক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। এখন কয়েকশ’ চাষি পরিবার চরম হতাশায় ভুগছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে যারা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।এ দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলার কৃষকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, জামালপুর সদরের ডেফুলিবাড়ি, সাপলেঞ্জা, বুখুঞ্জা, জালিয়ারপাড়, লাঙ্গলজোড়া, কেন্দুয়া কালিবাড়ি, নান্দিনা, ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, সিরাজাবাদ, হাড়িয়াবাড়ি, পঁচাবহলা, নটারকান্দা, ঋষিপাড়া, ধর্মকুড়া, সরিষাবাড়ি, মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে করে ধানক্ষেতগুলো সোনালি রঙ ধারণ করলেও তার শীষ মারা যাচ্ছে। ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে।
.png)
এদিকে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলাতে চলতি বোরো মৌসুমে বিআর-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ রোগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভার ৪-৫ হাজার হেক্টর জমির ধানে শুধু চিটা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১০ সহস্রাধিক প্রান্তিক চাষীদের সামনে শুধুই হতাশার ছাপ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি অফিসে ভীড় জমাচ্ছেন।
কৃষকদের সচেতন করতে ইতোমধ্যেই কৃষি অধিদপ্তর ব্লাস্ট রোগ থেকে রক্ষা পেতে রোগের লক্ষণ এবং সার-কীটনাশ প্রয়োগের মাত্রা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। এরপরও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না।এমন অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য ঘাটতির কবলে পড়ার আশঙ্কাও বিশেষজ্ঞরা।
এতেই শেষ নয়, আক্রান্ত ধানের খড় গবাদি পশু খেলেও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল বাশার জানিয়েছেন, কাঁচা খড় খাইলে গরুর এমন সমস্যা হতে পারে। শুকানোর পর খাওয়ালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ২০ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মোট ৭০ হাজার কৃষক এবার বোরো ধানের আবাদের আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষি অফিসার ড. মাহফুজুর রহমান জানান-ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ, ধানের পাতা ও ডগার গোড়ায় খয়েরী রং মালার মতো হয়ে গাছের খাদ্যনালী বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসা দেওয়ারও সময় থাকে না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, অনেক অসাধু ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে ভেজাল কীটনাশক কিনে সহজ-সরল কৃষকদের প্রতারিত হবার ঘটনাও ঘটছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মতিয়ার রহমান জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৭৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ধানক্ষেতে ব্লাস্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। ব্লাস্ট রোগ যাতে ধানক্ষেতে ছড়াতে না পারে এজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চাষিদের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলায় এবার ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ হয়েছে ৪৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ১৪ হাজার হেক্টরে। তবে চাষিরা বলেছেন, আক্রান্ত ক্ষেতের পরিমাণ ১৮ হাজার হেক্টরের ওপরে।
জামালপুর জেলার খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, নেক ব্লাস্ট রোগ যাতে ছড়াতে না পারে এবং চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে জন্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর