জেলা কৃষি বিপণন অধিদফতরে কর্মকর্তারা জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্মিত অহিমায়িত সংরক্ষনাগার অনেক বেশি কার্যকর। এ বছর অহিমায়িত সংরক্ষনাগারের ব্যাপক চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করেছে অধিদফতর।
বিরাহীম এলাকার কৃষক দুলাল খান জানান, অহিমায়িত সংরক্ষণাগারে আালু রাখলে ইচ্ছেমত বিক্রি করা যায়। কোল্ড স্টোরেজে রাখলে প্রতি বস্তায় প্রায় সাড়ে ৩০০-৪০০ টাকা করে খরচ হয়। যা অহিমায়িত সংরক্ষণাগারে লাগে না।এতে আলুর পাশাপাশি ধান ভূট্টা, কলা এবং কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল সংরক্ষণ করা যায়।
.png)
কৃষি বিপণন অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ২০১৬-১৭ সালে ‘বসতবাড়িতে আলু সংরক্ষণ, প্রক্রিজাতকরণ ও বিপণন কার্যক্রম’ কর্মসুচিরর মাধ্যমে প্রথম দফায় ১১ জেলার ৪০ উপজেলায় আলু সংরক্ষণে ৪০টি অহিমায়িত মডেল সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে। এতে প্রায় ৩৩ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব। রংপুর জেলায় ৮ উপজেলার মধ্যে ৬টি নির্মাণ করা হয়েছে। বসতবাড়িতে স্বল্পমূল্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ২৫/১৫ ফুট ঘরে খরচ হয় লক্ষ্যাধিক টাকা। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, কাঠ, টিন ও ইট।একবার অহিমায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে ২-৩ বছর পরপর সংস্কার করা হয়। এটি ফেব্রুয়ারী-জুন পর্যন্ত ৪-৫ মাস আলু সংরক্ষণের একটি উত্তম জায়গা।
রংপুর কৃষি বিপণন অধিদফতরের জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এ এস এম হাসান সারোয়ার জানান, দীর্ঘদিন থেকে এ অঞ্চলে কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজের পাশাপাশি নিজস্ব পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করতেন। অধিকাংশ সংরক্ষণাগারগুলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি হতো না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কোল্ড স্টোরেজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
কৃষি বিপণন রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক অনোয়ারুল হক জানান, কৃষকদের আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিপণন অধিদফতর অহিমায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণ শুরু করেছে। এ ধরনের সংরক্ষণাগারে আলু সংরক্ষণে কৃষকদের মানসম্মত আলু রাখতে হবে।
কৃষি বিপণন অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে এবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও মুন্সিগঞ্জ এবং কুমিল্লার মোট ৭১টি উপজেলায় ২১০টি ইউনিয়নে অহিমায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রনালয়ে প্রজেক্ট জমা দিয়েছেন।
কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক ড. সারওয়ারুল হক জানান, রংপুর জেলায় ৪৪টি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এতে আলু রাখলে খরচ বেশি পড়ে কৃষকদের।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৯৪ হাজার ৮৪৩ হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৬২ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর