ফাহমিদা নবী একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। ক্ল্যাসিক্যাল এবং আধুনিক ধাঁচের গানই করেছেন বেশি। তার কণ্ঠে সুর ছড়িয়েছে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীতও। ২০০৫ সাল থেকে ক্লোজআপ ওয়ান রিয়েলিটি শো’র বিচারক হিসাবে কাজ করছেন। সিনেমায় প্লেব্যাক করে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশে-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ফাহমিদা নবী। আড্ডায় ছিলেন শব্দনীল।
.png)
চার দশকের ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন ছিলো। একটি দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফিরেছেন গানের মধ্যে। নতুন ভাবে কাজ করতে কেমন লাগছে?
ফাহমিদা নবী: একটা সময় যখন আমি থেমে গিয়ে ফিরে আসলাম, তখন আর পেছনের দিকে ফিরতে হয়নি। সামনের দিকে এগিয়ে চলার একটি সুন্দর যায়গা পেয়েছি আমি। সেই যায়গাটি কখনো ভাঙ্গছি, কখনো গড়ছি। সঙ্গীত তো আসলে তাই, কখনো নিজেকে ভাঙ্গা আবার গড়ে। নেওয়া যেমন, গানের ভেতরে রোমান্স থাকে, আঘাত থাকে, ভালোবাসার ক্ষয় থাকে। সব কিছু মিলিয়ে একটা ওঠানামা আছে। আমার কাছে মিউজিকের পথচলাটা সেরকমই।
জীবনানন্দ দাশের একটি কথা আছে, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। তেমনই এই সময়ে অনেকে নিজেকে শিল্পী দাবি করছে। তারা কি শিল্পী হয়ে উঠতে পারছে?
ফাহমিদা নবী: উঠতে পারছে কি না আমি জানি না। শিল্পী হওয়ার প্রথম কাজ হচ্ছে চর্চায় থাকা। যতদিন বেঁচে থাকবে শিল্প হওয়ার জন্য ছুটতে হবে। তারকা হওয়া সহজ, কিন্তু শিল্পী হয়ে ওঠা অনেক সাধনার বিষয়। এবং সকল বিষয়ে নয় এক ধারায়। ধারা বদলালে কিন্তু হবে না। কেনো বলি, আমাকে এক ভাবে দর্শক-শ্রোতা নিয়েছে। সেই ধারাটায় যদি আমি না থাকি, একটা ব্যাঘাত হবে। এই ব্যাঘাত আবার দর্শক-শ্রোতা নিতে পারবে না। তখন তার শিল্পী হয়ে ওঠার যে গতিটা, সেটায় একটা পরিপূর্ণ ভাবে ঘটবে না। সুতরাং শিল্পী হওয়া কঠিন, তারকা হওয়া সহজ।
আপনি যেভাবে বললেন, সেই ক্ষেত্রে শিল্পী হওয়ার জন্য কি কি পথ অবলম্বন করতে হবে-
ফাহমিদা নবী: একটা বটগাছে কেনো পাখি থেকে শুরু করে মানুষরাও ছায়া খোঁজে, কারণ তার কাজটাই হচ্ছে ছায়া দেওয়া। তো একটা বটগাছ হতে গেলে তাকে তো অনেক সাধনা করতে হবে। তাহলে আমার মেধাকে বিকশিত করতে পারবো। নিজে পরিশীলিত হবো। আরো অনেক বেশি বেধার সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা হবে। কিন্তু আমি যদি মনে করি, মানুষ আমাকে দেখুক, আমাকে খুঁজুক তাহলে হবে না। আমার ভেতরে যে মেধা বা আমার যে গুণ আছে সেটাকে প্রস্ফুটিত করতে চাইলে আমাকে চর্চা করে যেতে হবে।
আপনি ২০০৫ সাল থেকে ক্লোজআপ ওয়ান-এর বিচারক ছিলেন। তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে আপনার পদচারণা ছিলো। খুব কাছ থেকে দেখেছেন দেশের তরুণ শিল্পীদের। গানের ক্ষেত্রে এদেশের তরুণরা কতটুকু সম্ভাবনাময়-
ফাহমিদা নবী: ২০০৫ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ক্লোজআপ ওয়ানের সঙ্গে ছিলাম। যাদেরকে নিয়ে এসেছি, চেষ্টা করেছি তারা যেনো এ প্লাটফর্ম থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তাদের জন্য ওই সময়ের শৈল্পিক যাত্রা খুব কঠিন ছিলো কিন্তু যখন প্লাটফর্ম হলো। তখন সহজ হয়ে গেলো তাদের জন্য। তার অনেক সুন্দর করে হাঁটতে শুরু করলো। প্লাটফর্ম এখন প্রচুর আছে, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে আশা করি। যত এই ধরণের কার্যক্রম থকবে, মেধার বিকাশ তত হবে। আমি তরুণদের নিয়ে অনেক আশাবাদী।
অনেক দিন ধরেই শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। আপনাদের মতো সিনিয়র শিল্পী যারা যাচ্ছেন, এই অভাব পূরণে আপনাদের কোনো দায়িত্ব দায়বদ্ধতা আছে কি না?
ফাহমিদা নবী: প্লাটফর্ম আমরা কিন্তু পাইনি। আমি তো অনেক বড় শিল্পীর কন্যা। আমার তো দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। আমাদের কিন্তু কেউ প্লাটফর্ম তৈরি করে দেয়নি। আমরা নিজেরাই এগিয়েছি। যেকোনো কাজে একটা স্বপ্ন দেখতে আমরা পারি। কিন্তু স্বপ্নের পথে কেউ বলতে পারে, হাঁটো, হাঁটো। কিন্তু হাঁটতে হবে আমাদেরকে। পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি আমাদের সময় ছিলো এখনো অতটা নেই। এইটার অভাবে কিন্তু অনেক বেধা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এইটা সত্যি কথা। হ্যাঁ, আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা যতটুকু পারি তরুণদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। যদিও এইটা খুবই অল্প। তবে বৃহত্তর ভাবে কাজ করতে হলে সকলকে একটি যায়গায়ে আসতে হবে। তানা হলে আমার একার চেষ্টা ক্ষুদ্রতা ছাড়া কিছু না।
‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গানটির জন্য আপনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এই গানটির পেছনের গল্প সম্পর্কে জানতে চাই-
ফাহমিদা নবী: ‘দুপুরের একলা পাখি’ এ্যালবামের মাধ্যমে ২০০৫ সালে বিরতি থেকে মাত্র গানে ফিরেছি। প্রায় ১২ বছর পর। তখন এই এ্যালবামের গানগুলি অন্য ভাবে করে দর্শকদের সামনে আসলাম। কারণ, আমি দেখলাম আমার বোন সামিনা একরকম ভাবে গাইছে, ভিন্নজন ভিন্ন ভাবে গান করছে অন্যদিকে আমার এতগুলো বছরের একটা গ্যাপ। সবকিছুর পর্যবেক্ষণ করে একটা ভালো কিছু করারা চেষ্টা করেছি। এই সময় একটি উপলব্ধির কথা বলি, যার যখন যেটা ভালো লাগে তার তখন সেইটা করা উচিত। আমার দর্শক শ্রোতা কি চায়, আমি সেইটা দেখবো না। আমি কি চাই এবং আমি দর্শকদের কি দিতে চাই সেইটা যদি আমার ভেতরে কাজ না করে। তাহলে আমি কিন্তু কিছু তৈরি করতে পারবো না। আমি কিছু সৃষ্টি করতে পারবো না, আমি কাজ করে যেতে পারবো কিন্তু আমার সৃষ্টিটা সুন্দর হবে না। ‘দুপুরের একলা পাখি’ যখন এ্যালবামটা করলাম সেই গানগুলো একটু অন্যরকম ছিলো। জীবনবোধ, প্রেম এবং মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করা এবং সবগুলো গান খুব সেড রোমান্টিক ছিলো। আমার এই কাম ব্যাকটা আমাকে দারুণ ভাবে উজ্জীবিত করেছে। একটা কথা, এই সময় এই গানটি নিয়ে আমার সাংবাদিক ভাইরা প্রচুর লিখেছে। তখন আমি ‘দুপুরের একলা পাখি’ হিসেবে পরিচিত হতে থাকি। এই এ্যালবামের গান শোনার পরে এনামুল করিম নির্ঝর আমাকে ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গান পাঠায়। আমি সেই সময় জানতামও না সিনেমার নাম কি। গানটি শুনে আমার খুব ভালো লাগে। এর অন্যতম কারণ, দেবজ্যোতি মিশ্র সুর। তবে তখন গানটি রেকর্ড হয়নি। প্রায় এক বছর পরে গিয়ে গানটি রেকর্ড হয়। এবং গানটি এত প্রচার হলো যা অকল্পনীয়। এইটা সত্য ভালোগান প্রচার হওয়া কিন্তু খুব জরুরী। এটাও কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার একটি স্থানে পড়ে। ভালো কিছুর অনেক বেশি প্রচারণা দরকার হয়। মজার বিষয় হলো এই গানটি সকলে যখন শুনছে তখনও আমি সিনেমার নাম জানতাম না। তারপর যখন সিনেমাটি রিলিজ হলো তখন আমি সিনেমার নাম জানতে পারি। এবং দেখলাম আমি পুরস্কারও পেয়ে গেলোম। এইটা আমার কাছে অবিশ্বাস বিষয় ছিলো। এই গানটি সকলের খুব ভালোলাগার একটি গান। বড় একটা বিরতির পর ফিরে আসাটা আমার কাছে আনন্দের লেগেছে। আমি কিন্তু নিজেকে ভাঙ্গছি বারবার এবং গড়ছি। এই গানটির পর আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
ভাঙ্গাগড়ার কথা বলছেন। আমি যতটুকু জানি আপনি ক্লাসিক্যাল গানের আগে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ চর্চা করেছেন। ভিন্ন ধারা চর্চা করে আপনি এখানে এসেছেন। নিজেকে নিয়ে যে ভাঙ্গ-গড়ায় মেতেছেন সেই সম্পর্কে বলুন-
ফাহমিদা নবী: সঙ্গীত মনের কথা বলে, দুঃখের-সুখের কথা বলে। প্রেম-ভালোবাসা, স্বপ্ন-সাহস- উদ্দীপনার কথা বলে। সঙ্গীত খুব কঠিন একটা সত্য এবং শিক্ষা। সঙ্গীত দিয়ে তুমি অনেক কিছু করতে পারবা। আমি নজরুলের গান অনেক পরে করি। আমাদের সময়ে ছোটবেলায় সকলে নজরুলের গানই করেছে। যেমন, মোমের পুতুল মোমের দেশের মেয়ে কিংবা দূর দ্বীপবাসিনী প্রায় সকলের জানা ছিলো। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা দিয়ে আমাদের স্কুল জীবনের শুরু। এইগুলো তো আমাদের করতে হয়েছে। কিন্তু আমি আমার বাবাকে দেখেছি আধুনিক গান করতে। আমার শেখান থেকে শুরু। আমার গজল ভাললাগে। আমি অসম্ভব গান শুনি, গজল শুনি। আবার এই দিকে ওয়েস্টার্ন যদি বলেন শার্লি ব্যাসি আমার অনেক প্রিয় একজন শিল্পী। আমি ইংলিশ, বাংলা, উর্দু, হিন্দি গান শুনি। আমার প্রচুর গান শুনতে ভালো লাগে এবং রিসিভও করি। গানের গল্প আমাকে খুব টানে। আমার কাছে মনে হয় গান একটা গল্প। আমি গল্প বলতে ভালোবাসি। অনেকদিন গান করার পরে আমার মনে হলো রবীন্দ্রনাথের গানগুলো আমি করবো। উনি কি বলতে চায়, কোন মুহূর্তের কথা বলতে চায় আমি সেই মুহূর্তকে প্রকাশ করতে চাই। রবীন্দ্রনাথের গান করলাম গিটারে, বৃষ্টির শব্দে। দারুণ সাড়া পেলাম। তারপর আমি নজরুলের গান করার জন্য তিনটা মাস নজরুলকে পড়লাম। পড়াশোনা করার পর আমার মনে হলো আমি নজরুলের গান এবার করতে পারবো। তারপরে নতুন প্রজন্মের জন্য নজরুলের গান তবলায়, গিটারে, খালি গলায় করেছি। এরপর আমি সেলিম আল দীনের গান করেছি। এইটা এক ভিন্নমাত্রা যাকে বলে নাটকের গান। এইগান করতে আমাকে তিনমাস ধরে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়েছে। মানে, তিনমাস ধরে সেলিম আল দীনের নাটক নিয়ে ভাবলাম, পড়লাম। তখন যেটা দেখলাম, জীবন এবং মৃত্যুর মাঝের সময়কে নিয়ে তিনি কত সুন্দর করে কাজ করেছেন। সেইটাকে আমি সুরে সুরে বলার চেষ্টা করলাম। এখনো আমি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করছি। শানের সঙ্গে কাজ করছি, তালহার সঙ্গে কাজ করছি। এই প্রজন্মের সুরের সঙ্গে কিভাবে আমার কণ্ঠ যাবে তা আমি জানি না। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এই প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করতে হলে তাদের মনের কথা, স্বপ্নের কথা আমাকে বুঝতে হচ্ছে। এদের তো এখনি ভালো লাগে আবার এখনি অভিমান হয়, এখনই সব ভেঙ্গেচুরে ফেলতে চায়। ওদের যে মিউজিকের কম্পোজিশনের সঙ্গে তাল মিলাতে হলে আমাকে ভেঙ্গে আবার গড়তে হচ্ছে। এইটা আমাকেই আমি করছি।
তরুণরা তো হুট করে ভাইরাল হতে চায়, ভিউ বাণিজ্যে থেকতে চায়। ভিউ বাণিজ্য নাকি শ্রোতা, কাকে আগায় রাখবেন-
ফাহমিদা নবী: অবশ্যই শ্রোতা। একটি ভালো গানের কখনো দর্শক হয় না। শ্রোতা হয়, তারা গান শোনে। আমাদের যত বিখ্যাত, প্রখ্যাত, কিংবদন্তি শিল্পী আছে তাদরে গানের এত ভিউ হয় না কিন্তু। তবুও তাদের গান মানুষের মুখে মুখে। তার কারণ কি? ভিউ দিয়ে কখনো একটি গানকে বিচার করা যায় না। কখনোই না।
আমরা যতটুকু জানি আপনি আপনার বাবার জীবনবোধ ও জীবনদর্শন নিয়ে চলেন। গান বা অন্য কোনো কারণে বাবার কাছে বকা খেয়েছেন-
ফাহমিদা নবী: আব্বা আমাদের গান গাওয়ার সময় কিছু বলতো না কিন্তু সে আমাদের নিয়ে ভাবতো। আম্মা বকা দিতো, এখনো বকা দেয়। বলে, কি গান করো! এইটা কি সুর তুলছো। গানের কথা বুঝছো কিনা, না বুঝে করছো। শুধু আমাদের না, আমার বাবাকেও বকা দিতো। এইটা আমাদের সৌভাগ্য। আব্বাকে কিছু বলতে হতো না। এত মোলায়েম করে, এত আদর করে, এত গভীর ভাবে গানের প্রকাশ করতো যে তাকে এখনো বুঝতে আমার আরো সময় লাগবে।
কাকে গানে এগিয়ে রাখবেন ফাহমিদা নবী না সামিনা চৌধুরীকে?
ফাহমিদা নবী: অবশ্যই সামিনা চৌধুরী। ওর কণ্ঠ এত মধুর, এত সুন্দর করে গান গায়। ওর একটা গুণ হচ্ছে, খুব চটকদার ভাবে যেকোনো গান গেয়ে ফেলে। সামিনা চৌধুরীর মতো মিষ্টি গলা আমি খুব কমই শুনেছি।
বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে আপনার অনেক কাজ হয়েছে। যদিও সম্প্রতি কোনো কাজ পাচ্ছি না আমরা। বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে কোনো মজার স্মৃতি-
ফাহমিদা নবী: হ্যাঁ, বাপ্পা আর আমি অনেক কাজ করেছি এক সঙ্গে। সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা আমি তরুণ প্রজন্মকেও বলতে চাই আমরা যখনই গান করেছি। আমরা দু’জনই অনেকটা সময় গান নিয়ে ভেবেছি। গান নিয়ে ভাবা, হোমওয়ার্ক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হোকওয়ার্ক ছাড়া কোনো কাজ করা উচিৎ না। মুহূর্তে কিছু পাওয়া যায় না। মুহূর্তের অনুভূতি আছে কিন্তু পাওয়া যায় না। যেকোনো সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। একটা বাচ্চা যখন জন্মায়, তাকে বড় করতে হয়। বড় করার সময় সেতো কিছু জানে না। হাঁটি হাঁটি পা পা করেই তো তাকে আগাতে হয়। সে তো জানেই না, তার মাছ দিয়ে ভাত খেতে ভালো লাগে না কি মাংস দিয়ে। সেইটা শেখানোর জন্য হলেও তাকে হোমওয়ার্ক করাতে হয়। তাকে শিখতে হয় আবার অন্যদেরকে দেখে একসঙ্গে এগিয়ে যায়। তেমনি আমাদের দ ‘জনের জুটিটা আমার ভালো লাগে। এখনো ভাবি, আমরা খুবই কষ্ট করেছি দর্শক শ্রোতার জন্য। আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। জানতে চেয়েছি তারা কি গান শুনতে চায়। ওরা তখন ওদের কথা বলতো আমরা ওভাবে চেষ্টাও গান করার চেষ্টা করেছি। একটা ছোট ঘটনা মনে পড়ছে, বাপ্পা আর আমি ‘একমুঠো-১’ করার পর একটি ছেলে অনেক রাতে আমার বাসায় আসলো একটি সিডি হাতে নিয়ে। সিডিটি আমাকে দিয়ে বললো, এই এ্যালবামের ছয় নম্বর গানটিতে অটোগ্রাফ দিন। ছয় নম্বর গানটি আমি গিফট করবো। বললাম কাকে?
তখন সে হেসে বললো প্রেমিকাকে। সেই গানটির মাধ্যমে তাদের প্রেমের আদান প্রদান হলো মানে যা তারা যা বলতে চেয়েছে তা এই গানটিতে আছে। এমন অনেক অনুরোধ আসছে, নয় নম্বর গান, এক নম্বর গান (হা-হা-হা)। আমাদের দু’জনকে দর্শক নিয়েছে এইটা আমাদের সৌভাগ্য।
সিনেমায় আবার কাজ করার ইচ্ছা আছে -
ফাহমিদা নবী: হ্যাঁ আছে। আমি সিনেমায় গান করতে খুব ভালো লাগে। সামনে একটি নতুন প্রজন্মের পরিচালকের সিনেমায় গান করবো। তারা যখন আমার কাছে প্রথমে আসে আমি জিজ্ঞাস করলাম, আমাকে কেনো এই কর্পোরেটে সময়ে চাচ্ছো। তারা আমাকে বললো, আমরা আপনাকে ভেবেই গানটি লিখেছি।