ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

‘ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করতে হবে’ 

এম. রবিউল
প্রকাশিত: ১৯:০৮, ১০ নভেম্বর ২০২৪
‘ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করতে হবে’ 
ছবি: অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

‘মহানগর’, ‘কাইজার’ সিরিজে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সম্প্রতি হইচইয়ে রিলিজ হয়েছে অনম বিশ্বাস পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’। এতে মোস্তাফিজুর নূরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পরীমনি। রঙিলা কিতাব ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হন তিনি। আলাপচারিতায় ছিলেম এম. রবিউল।  

রঙিলা কিতাব মুক্তির পর কেমন ফিডব্যাক পাচ্ছেন?
ইমরান:
সিরিজটি রিলিজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি। যারা দেখেছেন তারা বলছেন ভালো লেগেছে। এতে আমারও ভালো লাগছে। একটা কাজ করার পর দর্শকের ভালো লাগলে আনন্দ লাগে।

অন্য সব সিরিজ থেকে রঙিলা কিতাবের বিশেষত্বটা কি?
ইমরান:
আগে আমি যেসব গল্পে কাজ করেছি, রঙিলা কিতাবের গল্প সে রকম নয়। ভিন্ন গল্প বা ভিন্ন প্রেজেন্টেশন, ভিন্ন ডিরেক্টর সব মিলিয়ে একটা ভিন্ন জনরার কাজ এটা, যার কারণে এটা করা।

Advertisement

ছবি: ‘রঙিলা কিতাব’-এ অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও পরীমনিমোস্তাফিজুর নূর ইমরানকে প্রদীপ চরিত্রে দর্শক কি দেখবে, যা আগে দেখেনি?
ইমরান:
আমি বিশ্বাস করি, প্রদীপকে আগে দেখা যায়নি। এ চরিত্রের মাধ্যমে আমাকে নতুন করে দর্শক কীভাবে দেখবে, সেটা দেখার জন্য কনটেন্টটি দেখতে হবে। সিরিজটি যেহেতু রিলিজ হয়েছে সবাই দেখুক, দেখার পরে দর্শকই বলুক যে তারা নতুন করে কি দেখেছে।

পূর্ববতী কাজগুলোয় আপনাকে অ্যাকশনে খুব বেশি একটা দেখা যায়নি। রঙিলা কিতাবে অ্যাকশনটাকে কীভাবে পরখ করলেন?
ইমরান:
আমি এটা উপভোগ করেছি। আমার আগে থেকেই ফাইট করার অভিজ্ঞতা ছিল, আর রঙিলা কিতাবে একজন খুবই ভালো অ্যাকশন কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি খুব সুন্দরভাবে চেষ্টা করেছেন অ্যাকশনটাকে ফুটিয়ে তুলতে। আমরা দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং পরে কাজটা করেছি।

অন্য সব কাজের তুলনায় মহানগরে বেশি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন, বাকি কাজগুলোর সঙ্গে এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ইমরান:
আমার এ বিষয়ে আসলে বলার কিছু নেই। প্রতিটি কাজ আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা কাজের পর আমার কাছে মনে হয়, জীবনে এ কাজের পর হয়তো আর কাজ নাও হতে পারে অথবা দীর্ঘদিনের অপেক্ষা থাকতে পারে। একজন অভিনেতার জন্য একটা ভালো কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র অর্থাৎ সবকিছুর একটা কম্বিনেশন প্রয়োজন হয় আরকি। চরিত্রের পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। ভাইরাল হওয়া আমি বুঝি না। আমি বুঝি কর্মই ধর্ম। কাজেই আমার প্রধান ফোকাস রাখতে চাই। যেটা করছি, সেটাতেই পুরাপুরি থাকতে চাই। কে ভাইরাল হলো, কে হলো না, তা নিয়ে আমি ভাবি না।

ছবি: অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরানআপনার টিভি নাটক ছাড়ার কারণ কি?
ইমরান:
আমার কাজের শুরুর দিকে কি কাজ করব না এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আগে। টিভিতে কাজ করতে গিয়ে এটা অনুধাবন হলো যে ধরেন, টিভিতে আপনি কিছু একটা ভালো কনটেন্ট দেখছেন। সে সময় নিচে দেখলেন যে স্ক্রল যাচ্ছে, অমুক জায়গায় এতজন নিহত, অমুক জায়গায় আগুন ধরে গেছে, বিজ্ঞাপন হচ্ছে। পুরো স্ক্রিনে অনেক বেশি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। সেখানে ওই কনটেন্টের ওপর ফোকাস কীভাবে করবেন। কীভাবে ভালো কাজের পারফরম্যান্স দেখবেন।

টিভি নাটকের বর্তমান নিয়ে আপনি কি বলবেন?
ইমরান:
টেলিভিশনে এখনো যা খুব ভালো আছে, সেটা হচ্ছে এখানে রেসপেক্টের চর্চা আছে। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি চাইলেই খুব ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে পারে। ভিউর পেছনে না ছুটে অমুক চলছে তমুক চলছে, এ নিয়ে না থেকে ভালো ভালো অভিনেতার দিয়ে খুব ভালো প্রডাকশন এখনো চাইলে করতে পারে।

বড় পর্দার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যদি কিছু বলতেন—
ইমরান:
আমাদের দেশের সিনেমাকে গণ্ডির বাইরে বের করতে হবে। আমরা কুয়োর ব্যাঙ হয়ে আছি। কুয়ো থেকে বের হতে হবে। আমাদের আন্তর্জাতিক মার্কেটে ঢুকতে হবে। আমাদের সিনেমাগুলো সব দেশে চলবে, সেখান থেকে ব্যবসা করবে, এদিকে ফোকাস করা উচিত। এছাড়া প্রতিটা জেলায় সিনেপ্লেক্স থাকতে হবে। ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মে মনোযোগ দিতে হবে। ভালো সিনেমা বানাতে হবে।

গত ১০ বছরের তুলনায় বর্তমানে বাংলা সিনেমা কতটা উন্নতি হয়েছে?
ইমরান:
বর্তমানে অবশ্যই ভালো করছে। আমার মনে হয় আমরা ভালো করছি, সামনে আরো ভালো করা সম্ভব। এখন যেমন ভালো হচ্ছে, তার থেকেও হাজার গুণ ভালো করা সম্ভব। কারণ আমাদের দেশে এত জনপদের এত দারুণ দারুণ গল্প আছে সব গল্প আমাদের গল্প হয়ে উঠা খুব জরুরি। সব চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে গল্প বানানো যেতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!