ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

‘নাটকের পরিবর্তন খুব রাতারাতি ঘটে, এমনটা নয়’

এম. রবিউল
প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২০ নভেম্বর ২০২৪
‘নাটকের পরিবর্তন খুব রাতারাতি ঘটে, এমনটা নয়’
ছবি: নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ

দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। ছোট পর্দায় একের পর এক জনপ্রিয় কাজ দিয়ে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। এবার জুলাই আন্দোলন নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন তিনি। নতুন সিনেমা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে। আলাপচারিতায় ছিলেন এম. রবিউল। 

এ মুহূর্তে আপনার কাজের খবর কি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ:
 আমার জুলাই গণ-আন্দোলন নিয়ে যে সিনেমা করার কথা, সেটি নিয়েই ব্যস্ত আছি এবং এ মুহূর্তে এদিকেই মনোনিবেশ করছি।

সিনেমাটির কাজ কতদূর এগিয়েছে?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ:
 এ মুহূর্তে সিনেমাটি প্রি-প্রডাকশন পর্যায়ে আছে। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলছে।

Advertisement

বর্তমানে অনেকেই নির্মাণে আসছেন। তাদের থেকে নিজের নির্মাণের কি পার্থক্য দেখেন?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ:
 যারা নতুন নির্মাণে আসছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ভালো নির্মাণ করেন। গভীর চিন্তাভাবনা করে কাজ করেন এবং তাদের কাজের জায়গাটাও অনেক সুন্দর। আবার অনেকেই আছেন, যাদের যথেষ্ট পড়াশোনা নেই। তারাও এখানে আসছেন। কেন তারা এমন পেশায় আসছেন, এটা আমার জানা নেই। আমি মনে করি, তাদের থেকে আমার কাজের পার্থক্য হলো যারা পজিটিভ ও ভালো কাজ করছেন, আমার শেখার জায়গা হচ্ছে তাদের থেকে আমাকে ভালো কাজ করতে হবে।

নাটক-সিনেমায় কি পরিবর্তন চান, যা এখনো হয়নি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: 
নাটক-সিনেমায় অনেক ধরনের পরিবর্তনই চাই। নাটকের পরিবর্তন খুব রাতারাতি ঘটে, এমনটা নয়। তবে আমার কাছে সিনেমা পরিবর্তনটা জরুরি মনে হয়। সিনেমার নির্মাতাদের নির্মাণের ধরণ আরো ভালো করা উচিত। আমি যেহেতু নির্মাতা, সেহেতু নিজেকেই আগে বলব যে নিজের কাজটা যেন ভালো হয় এবং দর্শক যেন সেটা গ্রহণ করে। যেকোনো নির্মাতা নির্মাণের আগে তার কাজ নিয়ে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা করে সিনেমা করতে নামেন। দ্বিতীয়ত, সিনেমা হলের টিকেটিং সিস্টেমটা যদি ডিজিটাল হয় এবং একটা জায়গায় চলে আসে, তাহলে খুব ভালো হয়। তৃতীয়ত, সিনেমার টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো আমাদের বিদেশে গিয়ে করতে হয়, সে জায়গায় যেন আমরা উন্নতি ঘটাতে পারি এবং সরকার যেন এ কাজগুলোয় মনোযোগ দেয়। সিনেমায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যাতে উৎসাহিত হন, সে বিষয়ে যেন সরকার ভূমিকা রাখে। ভালো প্রযোজকরা এগিয়ে আসুন, যারা আধুনিক চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণা নিয়ে সিনেমার মার্কেটে ঢুকবেন এবং নতুন ও পুরনো সফল নির্মাতাদের জন্য ভালো একটা জায়গা তৈরি করে দেবেন। এছাড়া সিনেমার মার্কেটে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ দরকার।

ছবি: নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহএকজন নির্মাতা হিসেবে বাংলা নাটকের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: 
বাংলা নাটকের বর্তমান অবস্থা ভালোই চলছে। আন্দোলনের পরে সময়টা একটু স্থবির। আমার মনে হয় আন্দোলনভিত্তিক আরো কাজ করা উচিত। প্রেম-ভালোবাসাকেন্দ্রিক কাজ থেকে বের হয়ে যদি ব্যতিক্রমী কিছু করা যায়, সেটা ভালো হয়।

দেশের সিনেমা বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে, বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: 
এটাকে অবশ্যই খুব ভালোভাবে দেখছি। কারণ সারা পৃথিবী যদি আমাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, খুবই চমৎকার ও দুর্দান্ত হবে। এটা যত বেশি বাড়বে, তত সিনেমা প্রযোজক ও নির্মাতাদের জন্য ভালো। এতে আন্তর্জাতিক সিনেমার বাজার যেমন আমরা পাব, পাশাপাশি যারা অর্থলগ্নি করেছে, তাদের অর্থ ফিরে আসার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। এটা অবশ্যই বাংলা সিনেমার জন্য ভালো লক্ষণ।

ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, বন্যার্তদের পাশেও ছিলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্পিরিটটা কোথা থেকে পান?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: 
আমি আন্দোলনে ছিলাম বিবেকের তাড়নায়, মানুষের প্রয়োজনে এবং দেশকে ভালোবেসে। আমি চাই, আমার দেশটা ভালো থাকুক। দেশটা প্রাণ ভরে শ্বাস নিক। যেন সুন্দর শান্তিময় একটা দেশ হয়। বন্যার্তদের জন্য কাজ করেছি, সেটাও বিবেকের তাড়নায়। আমার কাছে মনে হয়েছে, একটা বড় পরিবর্তনের পর দেশ বন্যার শিকার, সরকারও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। সে সময় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটা খুবই জরুরি ছিল এবং আল্লাহর রহমতে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। স্পিরিটটা বিবেকের তাড়না থেকেই পাই।

ছবি: নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের প্রতি আপনার কি বলার আছে?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: 
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি বলব, এখনো যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। আমরা স্বাধীন হয়ে গেছি বা দেশ গোছানো হয়ে গেছে, এখন আমরা নিশ্চিন্ত, এমন নয়। আমাদের সদাজাগ্রত থাকতে হবে। আমাদের দেশকে আমাদেরই পাহারা দিতে হবে। দেশকে আমরা স্বাধীন করেছি, রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!