ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ভ্রমণ ]

ঘুরে আসুন মধুপুর জাতীয় উদ্যান  

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ঘুরে আসুন মধুপুর জাতীয় উদ্যান  
মধুপুর জাতীয় উদ্যান। ছবি: সংগৃহীত

জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আকর্ষণ মধুপুর জাতীয় উদ্যান। এটি ঢাকা থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরত্বে টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল জেলা থেকে মধুপুর উদ্যানের দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। শাল গাছ এই বনের প্রধান আকর্ষণ এবং ধারণা করা হয় এই বনাঞ্চল কয়েকশ বছরের পুরাতন।

মধুপুর জাতীয় উদ্যানটি ১৯৬২ সালে বন বিভাগের আওতাধীন আসে এবং ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সালে মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতীয় মধুপুর উদ্যানের আয়তন প্রায় ৮৪,৩৬৬ হেক্টর। উদ্যানের পাশ দিয়ে প্রবাহমান বংশী নদী উদ্যানকে দিয়েছে ভিন্নমাত্র। জাতীয় এ উদ্যানের ভেতরে এবং বাইরে দেখা মিলে গারো, কোচ, বামনসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের।

মধুপুর জাতীয় উদ্যানে আছে নানান প্রজাতির লতাগুল্ম ও বৃক্ষরাজি, যার মধ্যে শাল, বহেড়া, আমলকী, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বথ, বট সর্পগন্ধা, শতমূলী, জয়না, বিধা, আজুকি/হারগাজা, বেহুলা ইত্যাদি অন্যতম। সবুজ অরণ্যের প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি মধুপুর জাতীয় উদ্যানে আছে প্রায় ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪ প্রজাতির উভচর এবং ৩৮ প্রজাতির পাখি। এর মধ্যে মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, পেঁচা, কাঠ ময়ূর, বন মোরগ, লাল মুখ বানর, বন্য শুকর ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Advertisement

মধুপুর উদ্যানে লহরিয়া বন বিট কার্যালয় সংলগ্ন একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে আছে এবং এর পাশে রয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বনের পুরোটা সৌন্দর্য একনজরে উপভোগ করা যায়।

> আরো যা যা রয়েছে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে
জাতীয় মধুপুর উদ্যানে রয়েছে জুই ও চামেলী বাগান, দোখলা রেস্ট হাউজ, বকুল কটেজ, চুনিয়া কটেজ এবং দুটি পিকনিক স্পট। আরো আছে একটি ছোট্ট বাজার ও বেশকিছু আদিবাসী পল্লী। এছাড়াও এখানে আদিবাসীদের নিজস্ব তাঁতে তৈরী বিভিন্ন ধরণের রেশম বস্ত্রের কারিতাস নামে একটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

> যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে শুধুমাত্র সড়কপথে মধুপুর উদ্যানে যেতে হয়। ঢাকার মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময় ও শুভেচ্ছা পরিবহন নামে দুটি বাস সার্ভিস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই রুটে চলাচল করে।

> কোথায় থাকবেন
ঢাকা থেকে সাধারণত দিনে গিয়ে দিনেই মধুপুর উদ্যান দেখে ফিরে আসা যায়। থাকার জন্য মধুপুর উদ্যানের ভেতরে দোখলা নামক স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে দোখলা রেস্ট হাউজ। এছাড়াও জলই, বকুল, মহুয়া ও চুনিয়া নামে আরো চারটি কটেজে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারবেন। এই কটেজগুলোতে রাত্রিযাপনের সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

দোখলা রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর 01914-517256) অথবা টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় (0921-63524) থেকে অনুমতি ও বুকিং নিশ্চিত করতে হয়।

> মধুপুর জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ পরামর্শ
বনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে হালকা কাপড় ও জুতা পরিধান করুন।
সানগ্লাস, টুপি, দূরবিন, ছাতা এবং পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
মধুপুর বনে ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব নীরবতা বজায় রাখুন।
বনের যত্রতত্র প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল ফেলবেন না।
পোকা মাকড় এবং মশার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পতঙ্গনাশক ক্রিম সাথে রাখুন এবং জোঁকের ব্যাপারে সচেতন থাকুন।

> সতর্কতা
হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। আর তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। এইসব নম্বরে কোনোরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য, যেকোনো পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন, দেশ আমাদের, দেশের সব কিছুর প্রতি যত্নবান হওয়ার দায়িত্বও আমাদেরই।

সূত্র: ভ্রমণ গাইড 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!