ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ভ্রমণ ]

মহামায়া লেকের সৌন্দর্যে মেতে থাকেন পর্যটকরা

জোবাইদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মহামায়া লেকের সৌন্দর্যে মেতে থাকেন পর্যটকরা
মহামায়া লেকে তাঁবুতে থাকতে পারেন। তবে মহামায়াতে ক্যাম্পিং এ মেয়েদের থাকার অনুমতি নেই, কেবলমাত্র ছেলেরা থাকতে পারবে। এছাড়া মিরসরাই এ থাকার মতো তেমন ভালো কোনো আবাসিক হোটেল নেই। থাকতে চাইলে মিরসরাই এর কাছে সীতাকুণ্ডে কম টাকায় কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে সেখা

পাহাড়, লেক, ঝরনা, সুড়ঙ্গপথ সবই আছে। আছে গাছগাছালি ঘেরা চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে লেকের নীলাভ জলে কায়াকিং করার অপূর্ব সুযোগ। বোটে করে লতাপাতায় ঘেরা দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গপথের প্রকৃতির শোভা দেখার সুযোগ যা কোনো পর্যটকই হাতছাড়া করতে চাইবে না। আছে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকার সুযোগ। আছে রোদ্দুর ওঠা অতুলনীয় সুন্দর একটি সকাল।  

প্রকৃতির সাথে, পাখপাখালির কিচিরমিচির, লতাদের কানকথা, পাতাদের ঝুমঝুমির মাঝে কাটানোর সুযোগ। আছে এই বিস্তীর্ণ লেকের পাশে বসে রাতে গান-আড্ডা শেষে বারবিকিউ খাওয়ার অপারচুনিটি। 

আছে সুউচ্চ পাহাড়ের কোলে বসে প্রকৃতির অপার মুগ্ধতা দেখার সুযোগ। আছে ঝরনার পানিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ। আছে বোটে করে গাছগাছালি ঘেরা ছোট ছোট দ্বীপ বিশিষ্ট বিস্তীর্ণ লেকের নীলাভ জলে পা ডুবিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ।

Advertisement

Camping and Kayaking at Mohamaya Lake Mirsharai Chittagong Bangladesh

  • ভাবছেন এই সুন্দর স্পটটা কোথায় আর কিভাবে ঘুরতে আসবেন এই তো।  আপনি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো গাড়িতে করে চলে আসতে পারেন এখানে। সেজন্য আপনাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় নামতে হবে। নেমেই দেখবেন স্পটের নাম লেখা সাইনবোর্ড। তো সিএনজি নিয়ে স্পটের একদম গেট পর্যন্ত চলে যেতে পারেন অথবা আপনি যদি হাঁটতে পছন্দ করেন তাহলে দশ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন স্পটের গেটে। 

আপনাদেরকে তো স্পটটির নামই বললাম না এখনো! আচ্ছা বলেই দিই স্পটটি হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া লেক। যার অবস্থান মীরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকায়। 

মহামায়া লেক চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মহামায়া লেক গড়ে উঠেছে। লেকের টলটলে পানি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। 

বোটে চড়ে লেকে ঘুরার পাশাপাশি চাইলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীর ও মনকে অপার্থিব প্রশান্তি দিতে পারেন। মহামায়া লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা এবং চাইলে তাবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতেও পারবেন।

মহামায়া লেক ❤️ Beautiful Mohamaya Lake 🔥 সীতাকুণ্ড Vlog Full VLOG Video  >> https://youtu.be/YdePHgldW_Y

গেটে আসার আগে আপনি পেয়ে যাবেন রেলপথ। আপনার ভাগ্য ভালো হলে রেল আসার সুন্দর দৃশ্যও দেখতে পাবেন। এরপর রেলপথ পেরিয়ে গেটে আসলে একটি টিকেট কাউন্টার দেখতে পাবেন। 

সেখান থেকে টিকেট নিতে হবে ভেতরে প্রবেশ করার জন্য। প্রবেশ করার পর খানিকটা হাঁটতে হবে আপনাকে। সেসময় রাস্তার দুপাশে আপনাকে স্বাগত জানাবে ঝাউগাছের সারি, অভিবাদন জানাবে হরেক রকমের ফুলের দল। হাঁটা শেষ এখন আপনি পৌঁছে গেলেন লেকের সামনে। 

চারপাশে  একবার চোখ বুলিয়ে নিন। আপনার বামে পাহাড়, ডানে পাহাড় কিছুটা দূরে সামনে বিশাল লেক, লেকে সারি সারি নৌকা, বোট, কায়াকিং বোট সাজানো দেখতে পাবেন। এবার আপনার পছন্দ আপনি কীসে করে ঘুরবেন! নৌকায়? বোটে? নাকি দু'/তিনজন মিলে কায়াকিং করে ঘুরে দেখবেন লেকের সৌন্দর্য! 

আপনি চাইলে মহামায়াতে ক্যাম্পিংও করতে পারবেন তবে সেজন্য আপনাকে দুই/তিন দিন আগে ক্যাম্পিং করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে কনফার্ম করতে হবে। 

দেশের অন্যতম নবীন কৃত্রিম লেক হলো মহামায়া। ১৯৯৯ সালে মহামায়া খালের ওপর স্লুইস গেট স্থাপনের মাধ্যমেই এর সৃষ্টি।


চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে মীরসরাই উপজেলার অবস্থান। মুহুরি নদী ফেনী ও নোয়াখালী জেলা থেকে এটিকে আলাদা করেছে। একে চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারও বলা যায়। মীরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘির পাড়ের ঠিক উল্টো পাশের রাস্তাকেই রাবার ডেম বলে।

একদিনে মহামায়া লেক ভ্রমণে যা যা দেখবেন – পর্যটন বিচিত্রা

  • মহামায়া লেক প্রায় সারাবছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষা সফর, পুর্নমিলনী, ঈদ ট্যুর ইত্যাদি এখানে সারাবছরই চলে। সব বয়সের মানুষের বিচরণ দেখা যায় এই পর্যটন স্পটে। আপনিও আসতে পারেন, দেখে যেতে পারেন মহামায়া লেক আর আপনি যদি একবার ঘুরে যান তাহলে সত্যিই মহামায়া লেকের মায়ায় পড়ে যাবেন।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে ট্রেন অথবা বাসে করে প্রথমে চট্টগ্রাম রোডের মিরসরাই থানাধীন ঠাকুর দীঘি বাজারে নামতে হবে। এস আলম, শ্যামলি, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাস ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা। এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ১০০০-১২০০ টাকা। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে মহামায়া লেক যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনে এসে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে। শ্রেণি ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ২৫০-১০০০ টাকা। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিকশা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদীঘি বাজার নেমে যেতে হবে। তারপর পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে মহামায়া লেক যাওয়া যাবে।

যেখানে থাকবেন : মহামায়া লেকে তাঁবুতে থাকতে পারেন। তবে মহামায়াতে ক্যাম্পিং এ মেয়েদের থাকার অনুমতি নেই, কেবলমাত্র ছেলেরা থাকতে পারবে। এছাড়া মিরসরাই এ থাকার মতো তেমন ভালো কোনো আবাসিক হোটেল নেই। থাকতে চাইলে মিরসরাই এর কাছে সীতাকুণ্ডে কম টাকায় কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারবেন।

লেখক:- শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!