ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধগুলো হয় নীরবে

ডা. রাইসুল ইসলাম পরাগ
প্রকাশিত: ১২:৩২, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধগুলো হয় নীরবে
কখনো কখনো, সাহায্য চাইতে পারাটাই মানুষকে মৃত্যুর দিক থেকে জীবনের দিকে ফিরিয়ে আনে। জেনে রাখুন, অন্ধকারেরও একটা সীমা আছে। তারপরই আলো শুরু হয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধগুলো হয় নীরবে। যে মানুষটা প্রতিদিন সবার সঙ্গে হেসে কথা বলে- তার ভেতরেও হয়তো এমন এক ঝড় চলছে, যার শব্দ পৃথিবীর কেউ শুনতে পায় না।

রাত নামলে তার মাথার ভেতর হাজারো চিন্তা একসাথে চিৎকার করে ওঠে।
ঘুম আসে না।
অতীত ছাড়ে না।
ভবিষ্যৎ ভয় দেখায়।
বর্তমানটাও অসহ্য লাগে।

সে জানে না ঠিক কী হারিয়েছে। শুধু এটুকু জানে, আগের সেই মানুষটা আর নেই। কখনো মনে হয় বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে গেছে। কখনো মনে হয় শ্বাস নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বেঁচে নেই।

Advertisement

অনেকে তখন বলে,
“এত ভাবো কেন?”
“সব তোমার মনের ব্যাপার।”
“নিজেকে ব্যস্ত রাখো।”
কিন্তু যে মানুষটা ডুবে যাচ্ছে,
তার কাছে সাঁতার শেখানোর পরামর্শ নয়,
প্রথমে একটা হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।

মনে রাখবেন,
সব ক্ষত চোখে দেখা যায় না।
সব কান্নার শব্দ হয় না।
সব আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষ মৃত্যুর কথা বলে না।
আর সব শক্ত মানুষ সত্যিই শক্ত থাকে না।

কিছু মানুষ শুধু প্রতিদিন অভিনয় করে,
যাতে কেউ বুঝতে না পারে, সে আসলে কতটা ক্লান্ত।
আপনি যদি এমন একজন হয়ে থাকেন,
তাহলে একটা কথা মনে রাখুন। আপনি ভেঙে পড়েছেন,
তার মানে এই নয় যে আপনি শেষ হয়ে গেছেন।

যেভাবে চলছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র

কখনো কখনো, সাহায্য চাইতে পারাটাই মানুষকে মৃত্যুর দিক থেকে জীবনের দিকে ফিরিয়ে আনে। জেনে রাখুন, অন্ধকারেরও একটা সীমা আছে। তারপরই আলো শুরু হয়।

মনে রাখুন- এখানে নিজের প্রতিপক্ষ নিজেই । এটি নিজের দুর্বলতা, ভয়, নেতিবাচক চিন্তা এবং অলসতার বিরুদ্ধে এক নিত্যদিনের লড়াই । এই অভ্যন্তরীণ সংগ্রামে জয়ী হওয়া মানে হলো নিজেকে উন্নত করা এবং নিজের সর্বোচ্চ সংস্করণে পরিণত হওয়া।

নিজের সাথে চলা সবচেয়ে বড় যুদ্ধে হয় না কোনো রক্তারক্তি, চলে না কোনো মামলা মোকাদ্দমা, থাকে না কোনো সাক্ষী। সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা মানুষে মানুষে নয়; নিজের সাথে নিজের।
Me vs Me! Head vs Heart!

কেউ জানে না, কেউ বোঝে না। নীরবে নিজের সাথেই নিজে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে কত মানুষ...প্রতিনিয়ত! নিজের সাথে যুদ্ধের মূল দিকগুলো:--

লক্ষ্য বনাম প্রলোভন:
নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য অলসতা বা ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা ।

ভয় ও দ্বিধা জয়:
নিজের মনের ভেতর জমে থাকা ভয়, ইনসিকিউরিটি এবং নেতিবাচক চিন্তার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করা ।

সঠিক ও ভুলের দ্বন্দ্ব:
নিজের বিবেক এবং চাহিদার মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন করে সঠিক পথে অটল থাকা ।

নিজের গল্পে নায়ক:
নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিজের জীবনের গল্পের হিরো হিসেবে টিকে থাকা । এই যুদ্ধ অদৃশ্য হলেও, এর মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হয়, যা বাইরের যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : ডা. রাইসুল ইসলাম পরাগ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। রেজিস্ট্রার, মানসিক রোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফোন : 01750-707145

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!