ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

পুষ্টিবিদের কাজ শুধু ওজন কমানো নয়!

পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদ
প্রকাশিত: ১২:৪১, ৩১ আগস্ট ২০২৬
পুষ্টিবিদের কাজ শুধু ওজন কমানো নয়!
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের ও জন্য সঠিক ক্যালোরি চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি  সমৃদ্ধ ব্যালান্সড ডায়েট প্ল্যান তৈরী করে দেন পুষ্টিবিদ। যাতে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সকল অর্গান ভালো থাকে।

আজকে একটু জেনে নেই পুষ্টিবিদ রা আসলে কি করেন। রোগ অনুযায়ী খাবার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ, জটিলতা কমানো এবং শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করাও পুষ্টিবিদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

একজন পুষ্টিবিদ কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করেন সেটা বলি আপনাদের।
১. ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রন, হাইপো আর হাইপার গ্ল্যাইসেমিয়ার ঝুকি কমান।

২. কিডনি রোগ,CKD, কিডনি ফেইলিউর ইত্যাদিতে প্রোটিন, লবণ, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও তরল গ্রহণের পরিকল্পনাও ডায়লাসিস রোগীর বিশেষ ডায়েট প্ল্যান করে দেন।

Advertisement

৩. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীর লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করেন। কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে খাদ্য পরিকল্পনা করে দেন।

৪. লিভারের রোগ যেমন -Fatty liver, Hepatitis, Cirrhosis ও অন্যান্য liver disease-এ প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা করে দেন।

৫. থাইরয়েডের সমস্যা যেমন -Hypothyroidism-এ ওজন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা করেন। প্রয়োজনীয় আয়োডিন, সেলেনিয়াম, আয়রনসহ পুষ্টির ভারসাম্য দেখেন। ওষুধের সঙ্গে খাবারের সম্ভাব্য interaction সম্পর্কে পরামর্শ দেন।

৬. PCOS/PCOD এ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস। তৈরী করেন। রেগুলার পিরিয়ড ও মেটাবোলিক হেলথ উন্নত করতে খাদ্য ব্যবস্থাপনা করেন।

৭. গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান কালে মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করেন। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে খাদ্য পরিকল্পনা, ল্যাক্টোটিং মা -এর পুষ্টি নির্ধারণ করেন।

৮. শিশু ও কিশোরদের পুষ্টি - বিশেষ করে Growth ও development-এর জন্য খাদ্য পরিকল্পনা, অপুষ্টি, আন্ডারওয়েইট বা ওভারওয়েইট প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থাপনা করেন।

৯. গ্যাস্ট্রিক ও অন্ত্রের সমস্যা- GERD/Acidity, IBS, Constipation/Diarrhoea, Celiac disease, বিভিন্ন food intolerance এ খাদ্য ব্যবস্থাপনা করেন।

১০. ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত ক্যালোরি ও প্রোটিন নিশ্চিত করা, ওজন ও muscle mass ধরে রাখা, ক্ষুধামন্দা, বমি, মুখে ঘা বা swallowing সমস্যা অনুযায়ী খাবার পরিবর্তন করেন।

১১. অপারেশনের আগে ও পরে- সার্জারির আগে নিউট্রিশনাল প্রিপারেশন, সার্জারির পর healing এর জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস নির্ধারণ করেন।

১২. রক্তস্বল্পতা ও পুষ্টির ঘাটতিতে Iron, B12, folate, vitamin D ইত্যাদির ঘাটতিতে খাদ্য ব্যবস্থাপনা করেন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়েটারি সাপোর্ট দেন।

১৩. অর্থারাইটিস ও উরিক এসিড কন্ট্রোল এ খাদ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করে দেন।

আরো বেশ কিছু রোগে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সহায়তা করেন। 
শুধু অসুস্থ হলে নয়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের ও জন্য সঠিক ক্যালোরি চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি  সমৃদ্ধ ব্যালান্সড ডায়েট প্ল্যান তৈরী করে দেন পুষ্টিবিদ। যাতে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সকল অর্গান ভালো থাকে।
 
লেখক : পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদ

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!