মিরাকল প্লান্ট বাঁশ এবং বাঁশের অর্থনীতি
| * বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বাঁশের ঘরে বসবাস করে। * বাঁশের প্রজাতি-বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে অষ্টম। * বাঁশের তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। * জাপানে নদীভাঙন রোধ ও বাঁধ রক্ষায় বাঁশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। * বাঁশ দিয়ে তৈরী ভবন অতি ভূমিকম্প সহনশীল বলে প্রমাণিত হয়েছে। * বাঁশ হতে শক্তিশালী ও উন্নত মানের রড তৈরী করছে জাপানীরা। *গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর ক্ষেত্রে বাঁশ অদ্বিতীয়। * বাঁশ পরিবেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন- ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। |
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল গাছটির নাম বাঁশ। বাঁশের ব্যবহার ব্যাপক। বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) রান্নাঘরের জিনিসপত্র উৎপাদন থেকে শুরু করে সাইকেল বা আসবাবপত্র তৈরি করা পর্যন্ত নির্মাণের প্রায় সব শাখাতেই বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। তাই বাঁশকে বলা হয় মিরাকল প্লান্ট। কারণ এর রয়েছে প্রভুত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।
বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে বিপুল পরিমাণ আয় ও কর্মসংস্থান করা সম্ভব। আবার এই উদ্ভিদটি খাদ্য, অক্সিজেন ও ছায়া দেয় এমনকি গড় তাপমাত্রা কমাতে সক্ষম। কিন্তু কথায় এবং কর্মে বাঁশ দেয়ার প্রবণতা বাঙালির বহু পুরনো অভ্যেস। প্রতিহিংসাকাতর হয়ে কিংবা ঘায়েল করবার জন্য বাঙালিরা প্রতিপক্ষকে সহসাই বাঁশ নামক বস্তুটি দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাঁশ সবসময় শুধু জিদ্দির প্রয়োগে ব্যবহৃত হয় যে তা কিন্তু নয়। মানুষের জীবনে বাঁশের বহুবিধ ব্যবহার লক্ষণীয়। তাই বলবো- কারণে অকারণে একে অপরকে বাঁশ না দিয়ে বেশি বেশি বাঁশ লাগান। এতে প্রকৃতি, পরিবেশ, জীবিকা ও অর্থনীতির উন্নয়ন হবে বৈকি!
- বাঙালির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের ব্যবহার যেন সৃষ্টির অমীয় বিধান। আগেরকালে জন্মের পর বাঁশের চাঁছি দিয়ে নাড়ি কাটা হতো। আর মৃত্যুর পর বাঁশের খাটিয়ায় শেষযাত্রা চিরন্তর সাক্ষী। মানব জীবন শেষে কবরেও বাঁশকে সাথে করে নিয়ে যেতে হয়। রসিকতা করে বলা যেতে পারে, এ মানব জীবন কোনোভাবেই বাঁশমুক্ত নয়।
বাঁশ দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। বাঁশ ও বেত উৎপাদনকারী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বর্তমান নাম ইন্টারন্যাশনাল ব্যাম্বু অ্যান্ড র্যাটান অর্গানাইজেশন (INBAR), যা পূর্বে ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর ব্যাম্বু অ্যান্ড র্যাটান নামে পরিচিত ছিল, তারা বলেছে- বাঁশ গাছ জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং জীববৈচিত্র ধ্বংস হওয়া রোধে সহায়তা করতে পারে।
.png)
বাঁশ গাছের শিকড় মাটি ক্ষয়ে যাওয়া রোধ করতে পারে। বাঁশের পাতা পড়ার পর তা মাটির সাথে মিশে গিয়ে মাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে। চীনে বহুবছর ধরে বাঁশ উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির পুনরুজ্জীবনে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাঁশের সাহায্যে ভারতের এলাহাবাদে ইটের ভাটার কারণে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রায় পঁচাশি হাজার হেক্টর জমি পুনরুজ্জীবন করা হয়েছে যাতে প্রায় সাত লাখেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও ভূমিক্ষয় রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাঁশঝাড়। বাঁশের ঘর ভূমিকম্প সহনীয়। জাপানে প্রচুর বাঁশের ঘর দেখা যায়।
জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বাঁশের ঘরে বসবাস করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এই গাছ। জলবায়ুসহিষ্ণু ও দেশের আবহাওয়া উপযোগী এসব বাঁশ পাহাড়ধস, ভূমিক্ষয় ও নদীভাঙন রোধে কাজ করে।
জাপানে নদীভাঙন রোধ ও বাঁধ রক্ষায় বাঁশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বাঁশের একটি তাৎক্ষণিক উপকারিতা হচ্ছে এটি কীট-প্রতিরোধী, ছায়াময়, সবুজ স্থান তৈরি করে—ওই এলাকার কোনো ক্ষতি না করেই। এছাড়া বাঁশ লাগাতে মাটির ব্যবহারও একেবারেই কম করতে হয়। তারমানে বাঁশ অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই আমাদের বেশি বেশি বাঁশ লাগানো উচিত।
জিসিবি বায়োএনার্জি-তে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে বাঁশ। হাঙ্গেরিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ এগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এর ঝিওয়েই লিয়াং বলেন, বাঁশ থেকে মূলত বায়োইথানল ও বায়োচার সংগ্রহ করা যেতে পারে। বায়োচার হলো উদ্ভিদ থেকে তৈরি জৈবপদার্থ দিয়ে বানানো কাঠকয়লা—পরিবেশ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সরাতে এটি মাটিতে সংরক্ষণ করা হয়।
এটি দ্রুত বর্ধনশীল একটি উদ্ভিদ। কম বিনিয়োগে বাঁশ চাষে বেশি লাভ হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গ্লোবাল ব্যাম্বু রিসোর্সেস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনধারণের নানা কাজে প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ বাঁশের প্রজাতি-বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে অষ্টম।
বাংলাদেশে ৩৩ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে। ৫০০ প্রজাতির বাঁশ নিয়ে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন। ২৩২ প্রজাতি নিয়ে ব্রাজিল রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। ১৩৯ প্রজাতি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। মধ্য আমেরিকার ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকা টেকসই বাঁশ উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে করোনায় বিপর্যস্ত তাদের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।
কাঠের বিকল্প হিসাবে বাঁশের সজ্জা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করে দেশটি ইতোমধ্যে বছরে ১.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। আমরা জানি, জ্যামাইকার অর্থনীতি মূলত পর্যটন নির্ভর। দেশটির পর্যটন সেক্টর জিডিপির প্রায় ৩৫ শতাংশ আয় করে। এক সময় চিনি উৎপাদনের জন্য দেশটিতে ব্যাপক আখ চাষ হতো। এখন সেখানে সরকার উদ্যোগ নিয়ে টেকসই বাঁশ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাতে সফল হয়েছে।
জ্যামাইকার কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী ফ্লয়েড গ্রিন দাবি করেছেন, টেকসই বাঁশ চাষের এই প্রকল্পটি পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেবে এবং এতে কৃষকদের জীবনের আরও ব্যাপক উন্নতি হবে। চীনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঁশ ও বাঁশজাত পণ্য রফতানি করে বিপুল অর্থ আয় করছে।
বাঁশের মন্ড কাগজ তৈরীর জন্য বিখ্যাত এ কথা সকলেরই জানা। নতুন খবর হচ্ছে ইদানিং বাঁশের মন্ড হতে বস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যথা তুলা ও সুতা তৈরী হচ্ছে।
পৃথিবীজুড়ে বাঁশ ও বাঁশজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও বাঁশ সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে উঠছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে বাঁশ দিয়ে প্লাইবোর্ড, পার্টিকেল বোর্ড, সিমেন্ট বন্ডেড পার্টিকেল বোর্ডসহ গৃহস্থালির আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কাটিং পদ্ধতি উদ্ভাবনের ফলে বাঁশ চাষে ব্যাপক সাফল্য ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে বাঁশের তৈরি নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন হস্তশিল্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। উত্তরা ইপিজেডে তৈরি হচ্ছে বাঁশের কফিন, যা রফতানি হচ্ছে ইউরোপে। রফতানি হচ্ছে বাঁশের বাঁশি। কাগজ তৈরি হচ্ছে বাঁশ দিয়ে। বাঁশের তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই টেকসই বাঁশ উৎপাদনের মাধ্যমে কাঠের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে এগুলো রফতানির মাধ্য বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
- কৃষকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ উৎসাহিত করা এবং আসবাবপত্রসহ নান্দনিক শিল্পে বাঁশের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবতে পারেন সরকার।
তাই বাঁশ বলিয়া বাঁশকে যতই হেলা করেন না কেন- বাঁশ উচ্চ মাত্রার ভেলু এডেড প্রোডাক্ট হিসাবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে হয়তোবা। কারণ, বাঁশ দিয়ে তৈরী ভবন অতি ভূমিকম্প সহনশীল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বাঁশ হতে খুবই শক্তিশালী ও উন্নত মানের রড তৈরী করছে জাপানীরা। তারা বাঁশের তৈরী রড ব্যবহার করে ভুমিকম্প প্রবণ এলাকায় বাঁশের ঘরবাড়ী তৈরী করা হচ্ছে। তাছাড়া শক্তিশালী ব্যামবো রড এখন মাছ ধরার ছিপ তৈরীতে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাঁশ ও বেতের চাষ বেশি হয় সিলেট ও চট্রগ্রাম অঞ্চলে। বাঁশ এমন এক উদ্ভিজ যার রোপন একবার আহরণ বার বার। তথ্য-তালাশে জানাগেছে, বিশ্বে প্রায় ১৫০০ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মূলী, মিতিয়া, ছড়ি, আইক্কা, বাইজা, বররা, মাকাল, বড়বাঁশা, মাতলা তল্ল্যা, উড়া, কাঞ্চন, মুলাই, করমজাসহ প্রায় ২৬ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়।
মৌলভিবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ এলাকায় জন্মে দেশের সবচেয়ে বড় ও লম্বা প্রজাতীর বাঁশ। ঢাকার অদুরে গাজীপুরের শালবলে জন্মে ছোট ছোট নলীবাঁশ, যা ঘরের সিলিং এবং বাঁশী তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
বাঁশ সম্পর্কে জানতে গিয়ে দেখা গেল- বাঁশ ও বেতের ফার্নিচারের প্রচলন প্রথম শুরু হয় সিঙ্গাপুর এবং ভারতে। ভারত থেকে এর প্রচলন শুর হয় আমাদের দেশে সিলেট অঞ্চলে। আসাম, ত্রিপুরা ,কলকাতা থেকে বাঙালীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে শিল্পের সুচনা ঘটায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
কুটির শিল্পে বাঁশের নান্দনিক ব্যবহার নজর কাড়ে শহরবাসীর। বাঁশ দিয়ে তৈরী হচ্ছে মাদুর, চাটাই, হাত পাখা, ঝুরী, ধানের ডোলা, কোলা, আসবাব পত্র, খেলনা ঘর, খাট পালংক আরাম দায়ক বিছানা, মুর্তী ও ভাস্কর্য কতকিছু। এসব আবার দেশে বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে শৈল্পিক নান্দনিকার কারণে।
জানা না থাকলে জেনে রাখুন- বিশ্বের এক বিলিয়ন মানুষ বাঁশের তৈরী ঘরে বাস করে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর ক্ষেত্রে বাঁশ অদ্বিতীয়। কারণ বাঁশ অন্য সব গাছপালার চেয়ে বেশী পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং অন্য উদ্ভিদের চেয়ে বেশী কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
বাঁশ পরিবেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। এর অক্সিজেন সরবরাহ করার সক্ষমতা ৩৫ শতাংশ বেশি। এবং তীব্র আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে।
টমাস আলভা এডিসন প্রথম বৈদ্যুতিক বাতির মধ্যে বাঁশের ফিলামেন্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং সেই বাল্ব এর একটি এখনোও ওয়াশিংটন ডিসির স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। ১৮৭৯ সনে এডিসন উদ্ভাবিত বাল্বের কারবরানাইজড ব্যামবো ফিলামেন্ট ১২০০ ঘন্টা পর্যন্ত জ্বলতে সক্ষম ছিল।
শুনে অবাক হবেন- বাঁশ মানুষের জন্য পুষ্টিও যোগায়। খাদ্যগুন ও স্বাদের কারণে চীন, থাইল্যন্ড ও মায়ানমারে বাঁশ ভেজিটেবল হিসাবে সমাদৃত। কচি বাঁশের নরম কান্ড এশিয়ায় খাওয়ার প্রচলন আছে। কচি বাঁশের ডগা মুখরোচক সবজি- এতে আছে জার্মেনিয়াম, যা কোষের বয়োবৃদ্ধি রোধে সহায়তা করে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বর্ষার মৌসুমে কচি বাঁশের ডগা খেয়ে থাকে।
আমাদের গ্রাম বাংলায় নিরাপদ গৃহ নির্মাণে বাঁশ অনন্য ভুমিকায়। আমাদের সাহিত্য বা গণিত উভয় শাখায় রয়েছে বাঁশের ব্যবহার। তেলমাখা বাঁশ নিয়ে অংক করতে গিয়ে ছাত্রজীবনে কম মাথা ঘামাতে হয়নি।
আবার বাঁশির সূত্রধরে রাধা-কৃষ্ণের অমর প্রেমকাহিনির সাথে রয়েছে বাঁশের সম্পৃক্ততা। সেই গানটির কথা তো সবাই জানেন-‘বাঁশির সুরে কাজ নাই, সে যে ডা-কা-তি-য়া বাঁশি’। অন্যদিকে দেশপ্রেমের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের ইতিহাসের পাতাকে উজ্জ্বল করে রেখেছে ‘তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা’।
গ্রামবাংলায় বাঁশ দিয়ে লাঠিখেলা নামের একটি স্বাস্থ্যসম্মত খেলার প্রচলন প্রাগৈতিহাসিক। বাঁশ নিয়ে একটা প্রাচীন প্রাদ আছে - ‘কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাসঠাস’ অথবা ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়’। প্রবচন দুটির অর্থ সবারই জানা আছে। আহারে, যতিন্দ্রমোহন বাগচির কবিতায়- ‘বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শুলক বলা কাজলা দিদি কই’ - এই পঙিক্তমালায় কি যেন মায়ার যাদু মিশে আছে।
লেখক : সাংবাদিক, অর্থনীতি বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক,
[email protected], ০১৭১২৩৪২৮৯৪, ০১৭২৪৩৭৪০০০