হাদিসে সূর্যগ্রহণের নামাজের মতো চন্দ্রগ্রহণের নামাজও প্রমাণিত এবং সুন্নাত। তবে এ নামাজ জামাআতে ও একাকি পড়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হানাফি অনুসারীরা এ নামাজ একাকি নিজ নিজ ঘরে পড়ার ওপর তাগিদ দিয়েছেন। এ সম্পর্কে ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ বাদায়েউস সানাঈ-তে এসেছে-
ﺃَﻣَّﺎ ﻓِﻲ ﺧُﺴُﻮﻑِ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮِ ﻓَﻴُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻓِﻲ ﻣَﻨَﺎﺯِﻟِﻬِﻢْ؛ ﻟِﺄَﻥَّ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﺍ ﻭُﺣْﺪَﺍﻧًﺎ
.png)
‘চন্দ্রগ্রহণের সময় ঘরে নামাজ আদায় করা হবে। কেননা সুন্নাহ হচ্ছে, তখন একাকি নামাজ পড়া।’ (বাদায়েউস সানাঈ : ১/২৮২)
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে একবার চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। সহিহ বোখারির বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী যুগে সূর্য গ্রহণ হলে লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। নবী করিম (সা.) লোকদের মসজিদে সমবেত হতে বলেন। অতঃপর সবাইকে নিয়ে সূর্যের আলো পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ নামাজ আদায় করেন। সে নামাজের কিয়াম, রুকু, সেজদা সবই ছিল অতি দীর্ঘ। এমনকি অনেক সাহাবা আগ্রহ-উদ্দীপনা থাকা সত্ত্বেও ক্ষান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে তিনি বলেন, চন্দ্র ও সূর্য কারও জন্ম বা মৃত্যুতে আলোহীন হয় না। তাই যখন তোমরা চন্দ্র-সূর্যের এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করবে, তখন জলদি নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার পড়বে। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে অধিক পরিমাণে কাঁদতে এবং কম হাসতে। ’ -বোখারি ও মুসলিম
চন্দ্রগ্রহণের নামাজ সুন্নত। কেননা প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন চন্দ্র-সূর্যের আলো নিষ্প্রভ হতে দেখবে তখন নামাজ আদায় কর। -বোখারি ও মুসলিম