ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

রমজানুল মোবারকের আহ্বান

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ
প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২৩ মার্চ ২০২৩
রমজানুল মোবারকের আহ্বান
ফাইল ফটো

বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে আবার এলো পবিত্র মাহে রমজান মাস। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। আত্মশুদ্ধির মাস।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজা পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া, পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

Advertisement

আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-  أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থ: ‘গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সঙ্গে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৪)

রমজান মাসে রোজা পালন আল্লাহর তাআলার হুকুম। বিশেষ অক্ষমতা কিংবা অপারগতা ছাড়া রোজা ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘বিশেষ কোনো ওজর ছাড়া যে ব্যক্তি রমজানের একটি রোজাও ভেঙে ফেলে, সে সারা জীবনও যদি রোজা রাখে তবুও রমজানের ওই রোজার হক আদায় হবে না। সে আল্লাহর সামনে এমনভাবে হাজির হবে যে, আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করবেন বা শাস্তি দেবেন।’ (তাবারানি)।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্র রমজান মাসকে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান পেশ করা হলো-

> রমজানের শ্রেষ্ঠ উপহার মহাগ্রন্থ আল কোরআন। অনুবাদ ও ব্যাখ্যাসহ আল কোরআন অধ্যয়ন করুন এবং সে আলোকে জীবন গঠন করুন।

> তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধির আলো সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার দেয়ালে ছড়িয়ে দিন।

> পবিত্র কোরআন অনুশীলন, কিয়ামুল লায়ল, ইতিকাফ ও লায়লাতুল কদর রাত অন্বেষণের মাধ্যমে ইবাদতমুখী হোন

> মাতা-পিতা, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী বিপদগ্রস্ত, দুঃখী ও বঞ্চিত মানুষের হক আদারে সচেষ্ট হোন।

> রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মিথ্যা, পরচর্চা, ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীলতা, সুদ-ঘুষ ও অন্যের অধিকার হরণ থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসুন।

> সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকল্পে অতি মুনাফা, মজুতদারি ও বাজার সিন্ডিকেশন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং গঠনমূলকভাবে জনমত গড়ে তুলুন।

> সবর ও সহমর্মিতার এ মাসে আপনারা দুঃস্থ-অসহায় প্রতিবেশী ভাই-বোনদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন ।

> এ মাসে জাকাত-সাদাক্বাহ আদায়ের মাধ্যমে সম্পদকে পরিশুদ্ধ করুন।

> আল্লাহর পথে সম্পদ ও সময় বিনিয়োগ করে আখিরাতে নাজাতের পথ সুগম করুন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) আরবি হিজরি সনের শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। শুক্রবার (২৪ মার্চ) থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল দিনগত রাতে (রমজানের ২৬তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

ইয়া আল্লাহ! মহিমান্বিত এ রমজান মাসে উল্লেখিত আহ্বানগুলোর প্রতি সব মুসলিম উম্মাহকে মনোনিবেশ করার তাওফিক দান করুর। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
ট্যাগ: মাহে রমজান
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!