মনোবিদেদের মতে, প্রচণ্ড রাগ, মানসিক উত্তেজনা, উদ্বেগে ভুগলে কম বয়সেই রক্তচাপের তারতম্য হতে থাকে। হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ। এর থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইস্কিমিক হার্টের রোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। চলুন জেনে নেই রাগ কমানোর কৌশল-
১. আল্লাহই সকল বিষয়ের তাওফিক দাতা, সঠিক পথে পরিচালনাকারী, দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ তার হাতেই। আত্মা বিনষ্টকারী যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য তিনিই একমাত্র উত্তম সাহায্যকারী। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফের : আয়াত ৬০)
.png)
২. যেমন কুরআন পাঠ, তাসবীহ, তাহলীল পাঠ, ইস্তিগফার ইত্যাদি করা। কেননা মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, একমাত্র তাঁর জিকিরই অন্তরে প্রশান্তি আনতে পারে। তিনি বলেন, “জেনে রাখ আল্লাহ্র জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা রা’দঃ ২৮]
৩. রাগ হচ্ছে বুঝলে চুপ করে যান। অহেতুক কথা বাড়াবেন না, এতে সমস্যা বাড়বে।
৪. সে জায়গা থেকে সরে হেঁটে আসুন কিছুক্ষণ। ঘরের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। কারও সঙ্গে কথা বলে মাথা ঠান্ডা করুন।
৫. মাথা গরম হচ্ছে বুঝলেই কানে হেডফোন গুঁজে পছন্দের গান শুনুন। এতে মাথা ঠান্ডা হবে অনেকটাই।
৬. কী কারণে আপনি রেগে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে কী ভাবে সমস্যার সমাধান হবে, তা নিয়ে মনোযোগী হোন। অন্যের নিন্দা বা সমালোচনা না করে নিজের পছ্ন্দ-অপছন্দ পরিষ্কার করে জানান। নির্দিষ্ট করে আপনার চাহিদাটা বলুন।
৭. পছন্দের কাজ করুন। ছবি আকুঁন, ছবি তুলতে ভাল লাগলে তাই করুন। গল্পের বই পড়ার চেষ্টা করুন। বাগান করার শখ থাকলে খুবই ভাল। দেখবেন মন ভাল হয়ে যাবে।
৮. ক্ষমা করতে শিখুন। মনের মধ্যে রাগ পুষে রেখে সব সময় খারাপ কথা ভাবলে আখেরে ক্ষতি আপনারই। নিজের এই একপেশে চিন্তায় ডুবে থাকলে ভাল কিছু ভাবার ক্ষমতাটাই না চলে যায়!
৯. যদি দেখেন রাগ কিছুতেই কমছে না, তা হলে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। গভীর ভাবে শ্বাস টানুন, কিছুক্ষণ ধরে রেখে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। ৩ থেকে মিনিট ৫ মিনিট করলেই, দেখবেন মাথা অনেকটা ঠান্ডা হয়েছে। যোগাসন, মেডিটেশন করলে মনের চাপ ও উদ্বেগ কমে যায়।
১০. পছন্দের খাবার খেলেও মন ভাল হয়ে যায় অনেক সময়ে। রাগের পারদ চড়তে শুরু করলে মুখে একটা চকোলেট পুরে দিন। অথবা পছন্দের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাতেও কাজ হয় অনেক সময়।
এই প্রতিবেদন সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। রাগ, মাথা গরম, উত্তেজনা অসুখের পর্যায়ে চলে যায় অনেকেরই। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে এবং আপনার রাগের কারণে অন্যের ক্ষতি হচ্ছে বুঝলে, দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।