ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

নামাজের ওয়াজিব: ভুল হলে করণীয়, ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে আদায় হবে কি? 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
নামাজের ওয়াজিব: ভুল হলে করণীয়, ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে আদায় হবে কি? 
নামাজে কেউ যদি ভুলে কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তাহলে সংশোধনস্বরূপ নামাজ শেষে সাহু সিজদা করতে হয়। ছবি: অন্তর্জাল

নামাজ (ফারসি: نماز‎‎) বা সালাত (আরবি: صلاة‎‎) ইসলাম ধর্মের ৫টি রোকনের মধ্যে দ্বিতীয় রোকন। প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন নারী পুরুষ নির্বিশেষে, প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ বা অবশ্যকরণীয় একটি ধর্মীয় কাজ।

উল্লেখ্য, ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ না পড়া কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে।

এখন কথা হলো ইসলাম ধর্মের ফরজ বিধান এই নামাজে ভুল হলে করণীয়, আর ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ছেড়ে দিলে আদায় হবে কি?

Advertisement

নামাজের ভেতরের ৬টি ফরজ কাজ অর্থাৎ তাকবিরে তাহরিমা, কিয়াম, কেরাত, রুকু, সিজদা, শেষ বৈঠক ভুল করে বা ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে নামাজ হবে না। ঐ নামাজ আবার নতুন করে পড়তে হবে। নামাজের কোনো ফরজ ভুল করে বা ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে সাহু সিজদা দিলেও ওই নামাজ শুদ্ধ হবে না।

নামাজে কেউ যদি ভুলে কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তাহলে সংশোধনস্বরূপ নামাজ শেষে সাহু সিজদা করতে হয়। ভুলে ওয়াজিব ছেড়ে দিলে সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। কোনো মুসল্লি যদি সিজদা সাহু করতেও ভুলে যায়, তাহলে ঐ নামাজের ওয়াক্ত বাকি থাকা অবস্থায় মনে পড়লে ঐ নামাজ পুনরায় পড়ে নেওয়া ওয়াজিব হবে। ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর মনে পড়লে পুনরায় ঐ নামাজ পড়া ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব।

আর যদি কেউ নামাজে ইচ্ছাকৃত কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তাহলে ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আগে ঐ নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব। পুনরায় আদায় না করলেও ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় তার নামাজ হয়ে যাবে তবে সে গুণাহগার হবে।

নামাজের ওয়াজিব ১৪টি, যথা-

১. প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া।

২. প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলনো (কমপক্ষে ৩ আয়াত অথবা ৩ আয়াতের সমকক্ষ ১ আয়াত পরিমাণ তেলাওয়াত করা)।

৩. ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতকে কেরাতের জন্য নির্ধারিত করা।

৪. কেরাআত, রুকু, সিজদার মধ্যে ক্রমধারা বা তারতিব ঠিক রাখা।

৫. কাওমা করা অর্থাৎ রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।

৬. জলসা করা অর্থাৎ ২ সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা।

৭. তাদিলে আরকান করা অর্থাৎ রুকু, সিজদা, কাওমা, জলসায় কমপক্ষে ১ তাসবিহ পরিমাণ স্থির থাকা।

৮. কাদায়ে উলা অর্থাৎ ৩ বা ৪ রাকাআত বিশিষ্ট নামাজে ২ রাকাত পর বৈঠক করা।

৯. প্রথম ও শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া।

১০. ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম ২ রাকাতে ইমামের জন্য উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া এবং জোহর ও আসরে ইমাম ও একাকি নামাজির অনুচ্চ শব্দে কেরাত পড়া।

১১. সালাম ফেরানো। অর্থাৎ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে নামাজ শেষ করা।

১২. বেতরের নামাজের দোয়ায়ে কুনুত পড়ার জন্য অতিরিক্ত তাকবির বলা এবং দোয়ায়ে কুনুত পড়া।

১৩. ২ ঈদের নামাজে ৬ তাকবির বলা।

১৪. প্রত্যেক রাকাতের ফরজ এবং ওয়াজিবগুলোর তারতিব (ধারাবাহিকতা) ঠিক রাখা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!