যাকাত দেওয়ার আগে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা জরুরি
যাকাত দেওয়ার আগে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা জরুরি। কারও নিকট নিসাব পরিমাণ অর্থ (সাড়ে ৭ তোলা সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ/ব্যবসায়ী পণ্য) পুরো এক বছর ধরে মালিকানায় থাকলে সে নিজেই যাকাত দাতা—যাকাতগ্রহীতা নয়।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট মানের রূপার ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) প্রায় ৬,৫৩২ টাকা। এই দর অনুযায়ী, ৫২.৫ তোলা বা ভরির মোট রূপার দাম প্রায় ৩,৪৩,০০০ টাকা।
অর্থাৎ কারও কাছে যদি দৈনন্দিন খরচ বাদ দিয়ে ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এক বছর ধরে গচ্ছিত থাকে এবং তিনি যদি ঋণগ্রস্ত না হন, তাহলে তাকে এবার যাকাত দিতে হবে। সনাতন পদ্ধতির ৫২.৫ তোলা রুপার দাম ২,১২,১০০ টাকা।
.png)
শায়খ আহমদুল্লাহর মতে, বাহ্যিকভাবে কাউকে দরিদ্র মনে হলেও বাস্তবে তার সম্পদ থাকতে পারে। আবার স্বল্প আয়ের অনেকে প্রকৃতপক্ষে বেশি অসচ্ছল। তাই আবেগ নয়, অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে যাকাত বণ্টন করা উচিত। তার ভাষায়, যাকাত একটি আমানত। প্রকৃত হকদারের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।
যাকাত কাদেরকে দেওয়া যাবে
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হকদারের প্রথম দুটি শ্রেণী হলো— ফকির ও মিসকিন। ফকির বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার আয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন— খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা পূরণ হয় না। মাস শেষে তাকে ধার দেনা করতে হয় বা চরম টানাপোড়েনে চলতে হয়।
আর মিসকিন হলো সম্পূর্ণ নিঃস্ব ব্যক্তি, যার নিজের কোনও উপার্জন বা সম্পদ নেই। কারও মাসিক আয় এক লাখ টাকা হলেও যদি বিলাসী চাহিদা পূরণ না হয়, সেটি যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা নয়। কিন্তু ঢাকায় ১৫-২০ হাজার টাকা আয়ে পরিবার নিয়ে কষ্টে চলা ব্যক্তি— যার মৌলিক প্রয়োজনই পূরণ হয় না, তিনি যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে বলে মনে করেন শায়খ আহমদুল্লাহ।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, ঋণটি হতে হবে মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সৃষ্ট। চিকিৎসা বা জীবনধারণের প্রয়োজনে ঋণ হলে জাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণ বা বাণিজ্যিক ঋণ পরিশোধে জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। এর বাইরে দ্বীন প্রতিষ্ঠাসহ আরও কয়েকটি খাতে জাকাত দেওয়ার সুযোগ আছে।
স্বর্ণের গহনার জাকাত কে দেবে?
শায়খ আহমদুল্লাহর মতে, স্ত্রীর স্বর্ণের মালিকানা স্বামীর নয়, স্ত্রীর নিজস্ব। তিনি উল্লেখ করেন, যদি স্বর্ণ বিয়ে বা উপহার হিসেবে স্ত্রীর কাছে আসে, তবে জাকাত দেওয়ার দায়িত্ব স্ত্রীর ওপর। স্বামী চাইলে নিজের ইচ্ছায় স্ত্রীর জাকাত দিতে পারেন, তবে সেই ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে নিয়ত জানাতে হবে।