ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

বিজ্ঞান সবসময় বড় প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় না

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞান সবসময় বড় প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় না
মানুষের মনের অন্ধকার বুঝতে কখনো কখনো খুব বড় আলো দরকার হয় না, একটা ছোট্ট আলোই যথেষ্ট—যদি আমরা জানি, ঠিক কোথায় ফেলতে হবে

মানুষের মনের অন্ধকার বুঝতে খুব বড় আলো দরকার হয় না। 
একটা শ্যাওলা কীভাবে মানুষের মন বোঝার কাজে সাহায্য করল—এই গল্পটা না জানলে ২০২৬ সালের Nobel Prize in Medicine-এর আসল মজাটাই মিস করবেন।
ভাবুন তো, একটা খুব ছোট্ট প্রাণী।

এত ছোট যে খালি চোখে তার গুরুত্ব বোঝার উপায় নেই।
সে আলো দেখে।
আলোর দিকে সাঁতরে যায়।
বিজ্ঞানীরা একদিন কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
আলো দেখছে কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁরা এমন একটা protein-এর সন্ধান পেলেন, যার ওপর আলো পড়লে একটা ছোট্ট দরজা খুলে যায়। দরজা খুললেই কোষের ভেতর দিয়ে আয়ন চলাচল করে, আর তৈরি হয় electrical signal।

Proteinটির নাম—channelrhodopsin।

  • এখানেই গল্প শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু হয়নি। কারণ কয়েকজন বিজ্ঞানীর মাথায় তখন আরও অদ্ভুত একটা প্রশ্ন এল— “এই আলোর দরজাটা যদি আমরা একটা neuron-এর মধ্যে বসিয়ে দিতে পারি?”

ভাবুন।
মস্তিষ্কের কোটি কোটি কোষের ভিড়ে আপনি একটি নির্দিষ্ট group of neurons বেছে নিলেন।
তারপর আলো দিলেন।
আর শুধু সেই neurons-গুলোই সক্রিয় হলো।

আবার অন্য ধরনের light-sensitive protein ব্যবহার করলে আলো দিয়ে নির্দিষ্ট neurons-এর activity কমিয়েও দেওয়া যায়।
এই প্রযুক্তির নাম—optogenetics।
শুনতে science fiction-এর মতো।
কিন্তু এটা এখন neuroscience-এর বাস্তবতা।

Press release: Nobel Prize in Physiology or Medicine 2026 - NobelPrize.org

২০২৬ সালের Physiology or Medicine Nobel Prize-এর স্বীকৃতি পেয়েছেন Karl Deisseroth, Peter Hegemann এবং Georg Nagel—এই জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।
কিন্তু আসল আশ্চর্যের জায়গাটা অন্যখানে।

ধরুন, একটা প্রাণী ভয় পাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা দেখলেন, তার মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট circuit তখন active।

আগে আমরা বলতে পারতাম—
“দেখুন, এই circuit আর fear-এর মধ্যে সম্পর্ক আছে।”
কিন্তু সম্পর্ক থাকা আর কারণ হওয়া এক কথা নয়।
এবার optogenetics দিয়ে সেই circuit-টা ইচ্ছেমতো activate করা গেল।

ভয়-সম্পর্কিত আচরণ বদলে গেল।
আবার circuit-টা inhibit করা হলো।
আচরণও বদলে গেল।
অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা শুধু মস্তিষ্ককে দেখছেন না।
তাঁরা নির্দিষ্ট circuit-কে একটু নেড়ে দেখে জিজ্ঞেস করতে পারছেন—
“তুমি আসলে করছটা কী?”
এই জায়গাটাই neuroscience-কে বদলে দিয়েছে।

আমরা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছি, মস্তিষ্ককে শুধু—
“এই অংশটা memory-এর জন্য।”
“ওই অংশটা emotion-এর জন্য।”
“এই chemical-টা pleasure-এর জন্য।”
—এভাবে ভাগ করে বোঝা যায় না।
একই brain region-এর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের neuron থাকতে পারে।

একই neurotransmitter বিভিন্ন circuit-এ ভিন্ন কাজ করতে পারে।
একই behaviour-এর পেছনেও একাধিক circuit কাজ করতে পারে।

  • অর্থাৎ মস্তিষ্কটা কোনো আলমারি নয়, যেখানে emotion-এর জন্য একটা drawer, memory-এর জন্য একটা drawer আর fear-এর জন্য আরেকটা drawer রাখা আছে।

বরং এটা একটা বিশাল শহর।
অসংখ্য রাস্তা।
অসংখ্য সংযোগ।
কোথাও traffic বাড়ছে।
কোথাও signal বন্ধ।
কোথাও একটা রাস্তা ভুল জায়গায় গিয়ে মিশছে।

আর আমরা এতদিন শহরটার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে শুধু দেখছিলাম—
“ওই এলাকায় আলো জ্বলছে।”
এখন বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট রাস্তায় ঢুকে বলতে পারছেন—
“এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চললে কী হয়?”

Psychiatry-এর জন্য এখানেই গল্পটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
একজন মানুষ যখন বলেন,
“আমি জানি না কেন আমি এত ভয় পাই।”
অথবা,
“আমি জানি এটা আমার জন্য খারাপ, তারপরও কেন বারবার একই কাজ করি?”

অথবা,
“সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও কেন আমার কিছুই ভালো লাগে না?”
আমরা শুধু তাঁর কথাটা শুনে diagnosis দিতে চাই না।

আমরা জানতে চাই—
কেন?
কোন biological process?
কোন neural circuit?
কোন ধরনের learning?
কোন interaction?
কোন vulnerability?
কোন experience?
এখানে optogenetics আমাদের উত্তর দেয়নি।
বরং আরও ভালো প্রশ্ন করার একটা অসাধারণ যন্ত্র দিয়েছে।

আর এই জায়গায় ২০২৬ সালের World Mental Health Day-এর theme-এর সঙ্গে Nobel-এর গল্পটার একটা সুন্দর যোগ আছে—
“Lived experiences heard: real voices, real change.”
একজন মানুষ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলবেন।

আমরা শুনব।
তারপর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই একটা scientific question তৈরি হতে পারে।
সেই প্রশ্ন laboratory-তে যেতে পারে।
সেখান থেকে আবিষ্কার হতে পারে।

আর বহু বছর পরে সেই আবিষ্কার হয়তো এমন কোনো treatment-এর পথ দেখাবে, যা আজ আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।
এখানে একটা কথা খুব পরিষ্কার করে বলা দরকার।

  • Optogenetics দিয়ে এখন depression, anxiety বা autism-কে মানুষের মাথায় আলো ফেলে “বন্ধ” করে দেওয়া যায় না। 
  • এটা এখন মূলত একটি গবেষণার tool।

কিন্তু কখনো কখনো চিকিৎসার পথ তৈরি হয় চিকিৎসা আবিষ্কার দিয়ে নয়—প্রথমে রোগটাকে একটু ভালোভাবে বোঝার মাধ্যমে।
আর এই Nobel-এর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার সম্ভবত সেটাই।

2026 Nobel Prize in Medicine | Stockholm Announcement & Key Research Areas

গল্পটা শুরু হয়েছিল মানুষের depression দিয়ে নয়।
শুরু হয়েছিল একটা ক্ষুদ্র শৈবাল দিয়ে।
একটা ছোট্ট প্রাণী কীভাবে আলো অনুভব করে—
এই আপাত-নিরীহ প্রশ্ন থেকে।

তারপর—
একটি শৈবাল
→ একটি protein
→ একটি neuron
→ একটি neural circuit
→ একটি নতুন scientific tool
→ আর সেখান থেকে মানুষের মস্তিষ্ককে বোঝার নতুন দরজা।

বিজ্ঞান সবসময় বড় প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় না।
কখনো কখনো একটা খুব ছোট প্রশ্নই যথেষ্ট।

আর হয়তো psychiatry-তেও আমাদের এমন ছোট ছোট প্রশ্নই করতে হবে।
OPD-তে বসে কোনো রোগী যখন এমন কিছু বলেন, যার উত্তর 

আমরা জানি না—
হয়তো সেখানেই একটা research question লুকিয়ে আছে।
হয়তো আজ আমরা শুধু শুনলাম।
কাল কেউ সেই প্রশ্নটা লিখে রাখবে।
তারপর কেউ laboratory-তে যাবে।

আর হয়তো বহু বছর পরে—
কোনো এক Nobel Prize-এর গল্প শুরু হবে সেই প্রশ্ন থেকে।
কারণ মানুষের মনের অন্ধকার বুঝতে কখনো কখনো খুব বড় আলো দরকার হয় না।

একটা ছোট্ট আলোই যথেষ্ট—যদি আমরা জানি, ঠিক কোথায় ফেলতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!