ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্পটলাইট ]

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির চ্যালেঞ্জ বহিরাগত হস্তক্ষেপ

মো. শাহজাহান মো. শাহজাহান
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির চ্যালেঞ্জ বহিরাগত হস্তক্ষেপ
নির্বাচন কমিশন

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই নির্বাচনগুলোতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ এক বড় সঙ্কট হিসেবে দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সঙ্কটকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংঘাত-সহিংসতামুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহিরাগত হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্থানীয় নির্বাচনে বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে সহিংসতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement

ইসি সূত্র জানায়, বহিরাগত বলতে মূলত নির্বাচন এলাকার বাইরের প্রভাবশালী এবং নিষিদ্ধ দলের কর্মীদের বোঝানো হচ্ছে। এই হস্তক্ষেপ রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক বৈঠকে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য সহিংসতা, বলপ্রয়োগ ও বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ঠিক করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে, যেখানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সমন্বয় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকারীদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে আগের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বাতিল করা হচ্ছে। প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যেকোনো নাগরিক, এমনকি আওয়ামী লীগসহ যেকোনো দলের নেতা-কর্মী দলীয় প্রতীক ছাড়া অংশ নিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পলাতক আসামি এবং আইসিটি আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় প্রার্থীদের অযোগ্যতার তালিকা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি-ভূমি করের বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা ও হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। ইসির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। আমরা সব ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে।

ইসির পরিকল্পনা অনুসারে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। ইসি কেন্দ্রীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেল গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সমন্বয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে স্থানীয় করতে হলে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতেই হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!