একসময় তুরস্কে জাতীয় বীরের মর্যাদা পেতেন সুকুর। ছিলেন দেশের জনগণের নয়নমণি। ২০১১ সালে যোগ দেন দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল একেপি পার্টিতে! যা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। বিভিন্ন কারণে ক্ষমতাসীন দলের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। এরপর নিজেকে আলবেনিয়ান দাবি করে জনগণের সমর্থনও হারান।
২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে তুরস্ক সরকার। বাজেয়াপ্ত করা হয় তার সমস্ত সম্পত্তি, বাস্তুচ্যুত করা হয় দেশ থেকে। গ্রেপ্তার হন তার বৃদ্ধ বাবা। প্রাণ ভয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসেন সুকুর।
.png)
সম্প্রতি জার্মান প্রকাশনা সংস্থা ওয়েল্ট অ্যাম সোনটাগকে এক সাক্ষাৎকার দেন সুকুর। সেখানে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বেঁচে থাকার জন্য আমি এখন উবার চালাই। ওরা আমার স্ত্রীর গায়ে পাথর ছুঁড়েছে, বাচ্চাদের রাস্তায় অপমান করেছে। যতবারই বিবৃতি দিয়েছি, ততবারই হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। যখন দেশ ছেড়ে এসেছি, আমার বাবাকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমার যত সম্পত্তি ছিল সব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’

সুকুর যোগ করেন, ‘দুনিয়ায় আর কিছুই বাকি নেই আমার। এরদোয়ান সব কেড়ে নিয়েছে। আমার স্বাধীনতা, নিজেকে ব্যাখ্যা করার, প্রকাশের অধিকার, কাজ করার অধিকার, কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।’
কেউ সাহায্য করলে তাকেও সমস্যায় জর্জরিত করা হয় বলে জানান সুকুর। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক প্রবাসী তুর্কি ছাত্র তার সঙ্গে সেলফি তোলে। পরে সেই ছাত্রকে ১৪ মাসের জেল খাটতে হয়েছে।’
দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে গ্যালাতাসারে, ইন্টার মিলান ও ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়ে খেলেছেন হাকান সুকুর। গোল করেছেন আড়াইশর বেশি। এছাড়া তুরস্ক জাতীয় দলের হয়ে ১১২ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন ‘বুল অব বসফরাস’ খ্যাত এই ফুটবলার।
জীবিকার তাগিদে সব হারিয়ে উবার চালালেও নিজের পরিচয় সহজে কারো কাছে প্রকাশ করেন না তিনি। ফলে তার গাড়িতে ওঠা যাত্রীরা বেশিরভাগ সময় জানতেও পারেন না, চালকের নামের পাশে যোগ হয়ে আছে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড!